আয়াতুল কুরসি বাংলা

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ এর ফজিলতের বর্ণনা

ইসলাম
শেয়ার করুন

আয়াতুল কুরসি বাংলা (Ayatul Kursi Bangla) উচ্চারণ ও অর্থ

আজকের এই লেখায় আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করবো। পবিত্র কোরআনুল কারিমের দ্বিতীয় সূরা আল-বাক্বারা ২৫৫ তম আয়াত হচ্ছে আয়াতুল কুরসি। এটি কোরআনের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আয়াত এবং বিভিন্ন আলেমগন একে সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসাবে মান্য করেন। এতে সমগ্র মহাবিশ্বের ওপর আল্লাহর ক্ষমতা ঘোষণা করা হয়েছে। 

এছাড়া আয়াতুল কুরসি দুষ্টু আত্মা (দুষ্টু জিন) দূর করার জন্য সব থেকে শক্তিশালী একটি আয়াত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকে না। (শুআবুল ঈমান : ২৩৯৫)

পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর এই আমল করা কোনো কঠিন কিছু নয়। আমরা অনেকেই আয়াতুল কুরসি মুখস্থ পারি। যারা পারি না, তারাও মুখস্থ করে নিতে পারেন সহজে। অনেকেই আরবি পড়তে জানেন না। তাদের সুবিধার্থে এই ব্লগে আয়াতুল কুরসি বাংলা (Ayatul Kursi Bangla) উচ্চারণ ও অর্থসহ আয়াতুল কুরসির ফজিলত সঠিক ভাবে তুলে ধরার করবো ইনশাআল্লাহ।

আয়াতুল কুরসি বাংলা (Ayatul Kursi Bangla) উচ্চারণ, আরবি এবং অর্থ

ayatul kursi bangla

চলুন আয়াতুল কুরসি বাংলা (Ayatul Kursi Bangla), আরবি এবং এর অর্থ জেনে নেই। লেখার পরবর্তী অংশে আয়াতুল কুরসি বাংলা ব্যাখ্যা পাবেন।

আয়াতুল কুরসি আরবি

اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ-

আয়াতুল কুরসি বাংলা (Ayatul Kursi Bangla) উচ্চারণ

আয়াতুল কুরসি বাংলা (Ayatul Kursi Bangla) উচ্চারণ হলো-

আল্লাহু লা— ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্কাইয়্যুম, লা- তা’খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিসসামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াশ ফাউ ইনদাহু— ইল্লা বি ইজনিহ, ইয়া লামু মা বাইনা- আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি— ইল্লা বিমা শা’—-আ, ওয়াসিয়া কুরসি ইউহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আযী-ম।

আয়াতুল কুরসি বাংলা (Ayatul Kursi Bangla) ভিডিও

আয়াতুল কুরসি বাংলা (Ayatul Kursi Bangla) ভিডিও দেখে আশা করি আরো পরিষ্কারভাবে শিখতে পারবেন-

আয়াতুল কুরসি বাংলা (Ayatul Kursi Bangla) অর্থ

আয়াতুল কুরসি বাংলা (Ayatul Kursi Bangla) অর্থ হলো-

আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। কোনো তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তারই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতিত এমন কে আছে যে, তাঁর নিকটে সুফারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন।

তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতুটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন তা ব্যতিত। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান’।

আয়াতুল কুরসি বাংলা (Ayatul Kursi Bangla) ব্যাখ্যা

bangla ayatul kursi

আয়াতুল কুরসি বাংলা (Ayatul Kursi Bangla) ব্যাখ্যা বলবো। প্রথমেই বলা হয়েছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ, উপাস্য বা ইবাদাতের যোগ্য কেউ নেই। এরপর আল্লাহর গুণাবলি বর্ণনা করা হয়েছে। اَلْـحَيُّ  শব্দের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, তিনি সর্বদা জীবিত, তিনি অমর قَيُّوْمُ এই শব্দের অর্থ হচ্ছে, তিনি নিজে বিদ্যমান থেকে অন্যকেও বিদ্যমান রাখেন এবং এই মহাবিশ্বের সব কিছু তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন।

তারপর বলা হয়েছে, তাকে তন্দ্রা (ঘুমের প্রাথমিক প্রভাব কিংবা ক্লান্তি) ও নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না। অর্থাৎ মহাবিশ্বের সকল বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ তাকে ক্লান্ত করে না। অতএব তিনি সর্বক্ষণ আসমান জমিনের সব কিছুই তদারকি করেন, তাকে ফাঁকি দেওয়ার মত কোন সুযোগ নেই।

পরের অংশ থেকে বুঝা যায় যে, আল্লাহ আকাশ এবং জমিনের সবকিছুর মালিক এবং তিনি যা কিছুই করেন, তাতে কারো আপত্তি করার অধিকার বা কোন সুযোগ নেই।

কুরআন শরিফ

তার অনুমতি ছাড়া তার কাছে সুপারিশ করার ক্ষমতা আসমান জমিনের কারোরই নেই। আসমান জমিনের সব কিছুই একমাত্র আল্লাহর প্রশংসা করে।

আল্লাহ অগ্র-পশ্চাৎ যাবতীয় অবস্থা ও ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছেন। অগ্র-পশ্চাৎ বলতে এ অর্থ হতে পারে যে, তাদের জন্মের পূর্বের ও জন্মের পরের যাবতীয় অবস্থা ও ঘটনাবলি আল্লাহ জানেন। আবার এমন অর্থও হতে পারে যে, অগ্র বলতে মানুষের কাছে প্রকাশ্য, আর পশ্চাত বলতে বোঝানো হয়েছে যা মানুষের কাছে গোপন বা অপ্রকাশ্য। আল্লাহ সব কিছুই জানেন, তিনি অন্তরজামি। 

আল্লাহ যাকে যে পরিমাণ জ্ঞান দান করেন সে শুধু ততটুকুই পায়। আমরা অনেক কিছুতেই বারাবারি করে ফেলি অনেক সময়। উদাহরণসরুপ, যেমন বলে থাকি আল্লাহ সবাইকেই সমান জ্ঞান দিয়েছে কেউ চর্চা করে না তাই তার জ্ঞান কম।

আয়াতুল কুরসি বাংলা ব্যাখ্যা

আয়াত থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিৎ যে আল্লাহ সবাইকে অবশ্যই সমান ভাবে জ্ঞান দান করেন নি। যাকে যে পরিমাণ করেছে সে ততটুকুই পায়। এটা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করার কোন সুযোগই নেই, কারন সবার জ্ঞানের পরিধি যদি এক রকম হত তাহলে বিশ্বের সকল মানুষ এক চিন্তার অধিকারী হত এবং বিশ্বে এক জিনিস ছাড়া অন্য কোন কিছু আবিস্কার হতো না।

পরের অংশে বলা হয়েছে, তার আরশ ও কুরসি এত বড় যে, তা সমগ্র আকাশ ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে রেখেছে। এ দুটি বৃহৎ সৃষ্টি এবং আসমান ও জমিনের রক্ষণাবেক্ষণ করা তার জন্য অত্যন্ত সহজ। অতএব এথেকে বুঝা যায় আসমান জমিনের সকল কিছুই আল্লাহ রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন। আল্লাহ কোন কিছু রক্ষা না করলে আমরা হাজার চেষ্টা করেউ সেটা রক্ষা করতে পারবো না।

শেষ অংশে আল্লাহকে “সুউচ্চ সুমহান” বলা হয়েছে। তার সমতুল্য বা সমকক্ষ কেও নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তার কোন শরীক নেই।

হাদিসের ভাষায় আয়াতুল কুরসি পাঠের বিশেষ চার ফজিলত

কুরআন শরীফ

হজরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে আয়াতুল কুরসি পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না।” (নাসাঈ)

হজরত আলী  রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় থাকে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি শোয়ার আগে পড়বে আল্লাহ তার ঘর, প্রতিবেশীর ঘর এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন।” (বায়হাকি)

হজরত উবাই বিন কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার কাছে কুরআন মাজিদের কোন আয়াতটি সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি বলেছিলেন, (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু আল্ হাইয়্যুল কাইয়্যুম) তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাত তার বুকে রেখে বলেন, আবুল মুনযির! এই ইলমের কারণে তোমাকে ধন্যবাদ।” (মুসলিম)

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন,

“রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সুরা বাকারার মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে, যে আয়াতটি পুরো কোরআনের নেতাস্বরূপ। তা পড়ে ঘরে প্রবেশ করলে শয়তান বের হয়ে যায়। তা হলো ‘আয়াতুল কুরসি’।” (মুসনাদে হাকিম)

আশা করি সম্পূর্ণভাবে সবকিছু তুলে ধরতে পেরেছি। প্রয়োজনে আপনার প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করতে পারে। ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।

আমাদের আরো ব্লগ পড়ুন