খেজুরের উপকারিতা

খেজুরের উপকারিতা কি কি

স্বাস্থ্য
শেয়ার করুন

খেজুরের উপকারিতা নিয়ে প্রাথমিক কথা

খেজুরের উপকারিতা বলতে গেলে শেষ করা যাবেনা! পুষ্টিগুণে ভরপুর খেজুরে রয়েছে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, আঁশ, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক। খেজুর একজন সুস্থ মানুষের শরীরে আয়রনের চাহিদার প্রায় ১১% পূরণ করে। তাই প্রতিদিনই খেতে পারেন খেজুর।

পুষ্টিবিদদের মতে, মানুষের শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রনের অনেকটাই খেজুর থেকে আসে এবং খেজুরের উপকারিতা অনেক বেশি। এ ছাড়া ডায়াবেটিস থাকলে প্রচলিত খেজুরের বদলে শুকনো খেজুরকে ডায়েটে রাখতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

খেজুরের উপকারিতা কতটুকু?

খেজুরের উপকারিতা কি কি

সুস্বাদু আর বেশ পরিচিত একটি ফল হলো খেজুর, যা ফ্রুকটোজ ও গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ। এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। খেজুরকে চিনির বিকল্প হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। খেজুরের পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে বলা হয় ৪টি বা ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে আছে ৯০ ক্যালোরি, ১ গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ গ্রাম ফাইবার এবং আরও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। 

খেজুর শক্তির একটি ভালো উৎস। তাই খেজুর খাওয়ার সাথে সাথেই শরীরের ক্লান্তিভাব দূর হয়। আছে প্রচুর ভিটামিন বি, যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। আপনি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন খেজুর। 

আয়রনে সমৃদ্ধ খেজুর খেতে পারেন প্রতিদিন। অন্তত ২টি খেজুর যদি প্রতিদিন খান তবে অনেক রোগ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রনের সবই আছে খেজুরে।

খেজুরের উপকারিতা

khejurer upokarita

খেজুরের উপকারিতা হলো,

  • খেজুরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম। খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়।
  • ফাইবার আছে খেজুরে। তাই এই ফল ডায়েটের জন্য রাখতে পারেন নিশ্চিন্তে।
  • প্রতিটি খেজুরে আছে ২০ থেকে ২৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে আপনাকে সাহায্য করবে।
  • রক্তস্বল্পতায় ভোগা রোগীরা প্রতিদিনই খেজুর খেতে পারেন।  একজন সুস্থ মানুষের শরীরে যতটুকু আয়রনের প্রয়োজন, তার প্রায় ১১ ভাগ পূরণ করে খেজুর। আয়রন হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। খেজুর প্রচুর আয়রন রয়েছে। তাই যাদের দুর্বল হৃৎপিণ্ড, তাদের জন্য খেজুর হতে পারে সবচেয়ে নিরাপদ ঔষধ।
  • যারা চিনি খান না তারাও খেজুর খেতে পারেন। চিনির বিকল্প খেজুরের রস ও গুড়। 
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পানিতে খেজুর ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে খেজুর ভেজানো পানি পান করুন। দূর হবে কোষ্ঠকাঠিন্য। খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টি যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। কখনো কখনো ডায়রিয়ার জন্যেও এটা অনেক উপকারী।
  • খেজুরে থাকা নানা খনিজ হৃদস্পন্দনের হার ঠিকঠাক রাখতে সাহায্য করে। 
  • খেজুরে জিক্সাথিন ও লিউটেন থাকায় তা রেটিনা ভালো রাখে।
  • খেজুরে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি থাকার কারণে খেজুর খুব দ্রুত শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • খেজুরে বাড়তি পরিমাণে চর্বি এবং কোলেস্টেরল থাকে না।
  • খেজুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং প্রাকৃতিক আঁশে পূর্ণ। যারা নিয়মিত খেজুর খান তাদের বেলায় ক্যানসারে ঝুঁকিটাও কম থাকে।
  • খেজুরে রয়েছে বি১, বি২, বি৩ এবং বি৫ ভিটামিন যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক। সেই সঙ্গে খেজুরে দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়। সেই সঙ্গে রাতকানা রোগ প্রতিরোধেও খেজুর অত্যন্ত কার্যকর।
  • আমাদের শরীরের জন্য প্রোটিন অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান। খেজুর হলো প্রোটিন সমৃদ্ধ।
  • ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে সহায়ক। আর খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যা হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করে। খেজুর শিশুদের মাড়িও শক্ত করতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে সুপরিচিত খেজুর খেতে পারেন ঘুমানোর আগে। তবে হজমের সমস্যা থাকলে ভারি খাবার খাওয়ার পর পরই খাবেন না খেজুর। ডায়রিয়া অথবা পাতলা পায়খানা থাকলেও এড়িয়ে চলুন ফলটি।

আমাদের আরো ব্লগ পড়ুন