পেটের মেদ কমানোর উপায়

স্বাস্থ্য
শেয়ার করুন

চলুন পেটের মেদ কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই! পেটের মেদ অনেকের কাছেই একটি বিব্রতকর বিষয়। উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার যে পেটের মেদ বাড়ায় তা নয়, বেশি ক্যালরিযুক্ত যেকোনো খাবারও পেটের মেদ বাড়াতে পারে। একবার পেটে মেদ জমলে যে সেটা কাটিয়ে ওঠা যাবে না, এই ধারণাটি ভুল। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্থ হলেই শুধুমাত্র সহজে মেদ কমিয়ে ফেলা সম্ভব।

তার আগে জানা জরুরি যে কোন কোন খাবারের কারণে পেটে মেদ জমতে থাকে। সাধারণত মদ্যপান, ডুবো তেলে ভাজা খাবার, মিষ্টিজাতীয় খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ, কোমল পানীয়, অস্বাস্থ্যকর বাইরের খাবার, নিয়মিত লাল মাংস অথবা রেড মিট খাওয়া, স্যাচুরেটেড চর্বি গ্রহণ ইত্যাদি পেটের মেদ বাড়িয়ে তোলার পেছনে ভূমিকা রাখে।

ওয়ের্ক ফোর্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলেন, যখন একই তেল বারবার ব্যবহার করা হয়, তখনই সেখানে ট্রান্সফ্যাট উৎপন্ন হয়। ট্রান্সফ্যাট পেটের মেদ বাড়িয়ে দেয়। পেটের মেদ অতিরিক্ত জমে যাওয়ার আগে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। আমরা আজকে পেটের মেদ কমানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত জানবো।

পেটের মেদ কমানোর উপায়

পেটের মেদ

পেটের মেদ কমানোর উপায়গুলো সংক্ষেপে জেনে নেই চলুন,

  • নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে শরীরের বাড়তি মেদ জমা অথবা ভুঁড়ি হওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
  • আপনার খাদ্যতালিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যেমন—লাল চাল অথবা লাল আটার তৈরি খাবার এবং ফলমূল ও  শাকসবজি জাতীয় খাবারে মিলবে আঁশ।
  •  গ্রিন-টিতে রয়েছে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যেটা পেটের মেদ কমাতে খুব বেশি কার্যকর। তাই দুধ ও চিনি বেশি দিয়ে চা পানের অভ্যাসটিকে বদলে নিন গ্রিন-টিতে।
  • কাঠবাদাম, আখরোট ও সামুদ্রিক মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস। তাই এই খাবারগুলো পেটের মেদ কমাতে বেশ কার্যকর।
  • ঝাল খাবার খান বেশি করে, পেটের মেদ কমে যাবে। অবাক হবেন না। ঝাল খাবেন কিন্তু সেই ঝালের উৎস হবে দারুচিনি, আদা, গোলমরিচ এবং কাঁচামরিচ। এসব মসলা স্বাস্থ্যকর ও পেটের মেদ কমাতে কার্যকর।
  • সকালবেলা কাঁচা রসুনের কয়েক কোয়া চুষে খান। এই অভ্যাসের ফলে আপনার ওজন দ্রুত কমবে আর পেটের মেদও ঝরবে। কাঁচা রসুন শরীরের রক্তপ্রবাহকে সহজ করে। পেটে মেদ জমতে দেয় না।
  • এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করে সকাল শুরু করুন। এতে শরীরের হজমপ্রক্রিয়া বেশ ভালো থাকবে এবং শরীরে মেদ জমার প্রক্রিয়া ধীর হবে।
  • অতিরিক্ত চিন্তা এবং কম উদ্যোগের ফলেও কোমরের চারপাশে অথবা পেটে মেদ জমতে পারে। তাই ভুঁড়ি কমাতে অবশ্যই আপনাকে চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করতে হবে।
  • অনেকেই খাবার খাওয়ার পর বসে থাকেন অথবা শুয়ে পড়েন। তাদের খাবার সঠিকভাবে পরিপাক হয় না, যার ফলে পেটে চর্বি জমতে থাকে। সেই জন্য খাবার খাওয়ার পরে একটানা শুয়ে-বসে না থেকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা উচিত।
  • যাদেরকে সারা দিন টেবিল–চেয়ারে বসে বসে কাজ করতে হয়, তাঁদের পেটে সহজে মেদ জমে যায়। তাই তাঁদের উচিত ৩০-৪০ মিনিট বসে বসে কাজ করার পর উঠে ১০-১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা।
  • একবারে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ না করে অল্প করে বারবার খাবার গ্রহণ করুন। সারা দিনের  খাবারকে ৫-৬ বারে গ্রহণ করুন। সেখানে তিনবার প্রধান খাবার এবং দুই-তিনবার নাশতা জাতীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।

পেটের মেদ কমানোর উপায় নিয়ে আরো বিস্তারিত

পেটের মেদ কমানোর উপায় কি

স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে পেটের মেদ কমানোর সহজ ও ঘরোয়া কিছু উপায় সম্পর্কে জানান হল।

১। গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে পান করুন

সকালে এক কাপ ঘন কফি অথবা চা মন মেজাজ ভালো করে দেয় ঠিকই। কিন্তু যদি ওজন কমাতে চান তাহলে অবশ্যই প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে গরম পানিতে লেবুর রস পান করুন।

লেবুতে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা হজমে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটা খুব দ্রুত চর্বি কমাতে সহায়তা করে। গরম পানিতে লেবু খাওয়া বেশি কষ্টকর লাগলে এতে এক চামচ মধু যোগ করতে পারেন।

২। প্রতিদিন জিরা পানি পান করুন

সকালে পানীয় হিসেবে জিরা পানি পান করা ভালো। এটা পেট ফোলাভাব কমায়, হজমে সহায়তা করে ও পেটের মেদ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

৩। প্রোটিন সমৃদ্ধ নাস্তা করুন

শরীরে শক্তি যোগাতে প্রোটিন অনেক ভূমিকা রাখে। নাস্তায় প্রোটিন খাওয়া পেশি গঠনের পাশাপাশি সারাদিনই পেট ভরা আছে এমন অনুভূত হতে সহায়তা করে। ফলে বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের ঝুঁকি কমে। প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং দেহে চর্বি সঞ্চয়কারী ইন্সুলিনের মাত্রা কমায়।ন

৪। শস্য-জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন

শস্য-জাতীয় খাবারও আঁশ সমৃদ্ধ। এটা শরীর সুস্থ রাখার সাথেসাথে ক্ষুধাভাব কমাতে ও উচ্চ ক্যালরিবহুল খাবারের চাহিদা কমাতে সহায়তা করে। উচ্চ আঁশ সমৃদ্ধ শস্য ওজন কমায় এবং একই সাথে পেটের মেদ কমাতেও সহায়তা করে।

৫। মসলা খাওয়ার অভ্যাস

আদা স্থূলতার সমস্যা কমায় এবং একই সাথে প্রদাহনাশক উপাদান সমৃদ্ধ। ওজন কমাতে চাইলে খাবারে এই মসলা যোগ করুন। এটা দেহের ইনসুলিনের মাত্রার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

৬। মানসিক চাপ কমাতে যোগ ব্যায়াম বা ধ্যান

উদ্বেগ ও মানসিক চাপ চর্বি বৃদ্ধিকারী হরমোন যেমন কর্টিসোলের মাত্রা বাড়ায়। কর্টিসোলের তীব্রতা ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়, ক্যালরি বহুল খাবারের চাহিদা বাড়ায় এবং পেটে চর্বি জমাতে ভূমিকা রাখে। তাই মানসিক চাপ কমাতে যোগ ব্যায়াম ও ধ্যানের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৭। পর্যাপ্ত পানি পান করুন

ওজন কমানোর মূল চাবিকাঠি হল পর্যাপ্ত পানি পান করা। নিজেকে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি এটা অস্বাস্থ্যকর খাবারের চাহিদাও কমায়। খাবারের আগে পানি পান অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করে দেয়, ফলে পেটে চর্বি জমা হওয়ার ঝুঁকিও কমে।

৮। অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন

অ্যালকোহল পান করলে কোমরের লাইনের চারপাশে ফ্যাট স্টোরেজ বাড়তে পারে এবং পেটে চর্বি জমে। বেশিরভাগ অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি থাকে, যেটা দ্রুত ওজন বাড়িয়ে তোলে। অতিরিক্ত ক্যালোরি পেটে জমা হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

৯। বেরি খান

পেটের চর্বি কমানোর এক ধরনের দুর্দান্ত উপায় হলো সেই ফ্যাটযুক্ত নাস্তার বদলে বেরি জাতীয় ফল খাওয়া। এগুলো শুধুমাত্র সুস্বাদুই নয়, পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার বৈশিষ্ট্যেও সমৃদ্ধ।

১০। ঘুমের সাথে আপস করবেন না

ঘুমের অভাবে শরীরে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যেতে পারে। খুব অল্প ঘুম করটিসোলকে বাড়িয়ে দিতে পারে এবং উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দিতে পারে। সুতরাং, এটি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে পারছেন।

১১। চিনিকে ‘না’

যদি সত্যিই আপনার পেটের চর্বি থেকে মুক্তি পেতে চান তাহলে চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা শুরু করুন। চিনি শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা শরীরকে ফ্যাট সংরক্ষণে সাহায্য করে থাকে। ফলস্বরূপ পেটে মেদ জমতে থাকে।

আমাদের আরো লেখা পড়তে ঘুরে আসতে পারেন ‘লিখবে সবাই‘ হোমপেইজে। ধন্যবাদ।


আমাদের আরো ব্লগ পড়ুন