লম্বা হওয়ার উপায়

লম্বা হওয়ার উপায় নিয়ে গাইডলাইন

স্বাস্থ্য
শেয়ার করুন

আজকের এই ব্লগে লম্বা হওয়ার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। সকলেই সুগঠিত ও লম্বা শরীর নিয়ে জন্ম নেন না। কীভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে যে কেউ চাইলে লম্বা হতে পারেন নিচে তার টিপস দেয়া হলো। তবে এগুলো অবশ্যই রাতারাতি কাজ করবে না। আপনাকে ধৈর্য ধরে টানা অনেক দিন মেনে চলতে হবে। তাহলেই মিলবে সন্তোষজনক ফল।

আপনার মনে হতে পারে যে আপনার বন্ধুরা হঠাৎ করেই এত লম্বা হয়ে গেছে এবং আপনি পিছিয়ে রয়েছেন। হতে পারে আপনার পরিবারের বাকি সব সদস্যরা লম্বা এবং আপনি আপনার উচ্চতা নিয়ে  কিছু করতে পারেন কিনা তা ভাবছেন। সত্যটি হলো কোনো ব্যক্তির উচ্চতা বেশিরভাগই নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা জিনিসের দ্বারা নির্ধারিত হয়; যেমন, জিন। আপনার কিশোর বয়সে উচ্চতা প্রভাবিত করে এমন অনেকগুলো কারণ রয়েছে যা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। যেমন, খাদ্য এবং ক্রিয়াকলাপের স্তর। 

তাহলে চলুন আজ আমরা লম্বা হওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করবো একদম বিস্তারিত।

লম্বা হওয়ার উপায় কি?

লম্বা হওয়ার উপায় নিয়ে গাইডলাইন
`

সংক্ষিপ্তভাবে লম্বা হওয়ার উপায় গুলো নিয়ে কথা বলে ফেলি চলুন,

১। লম্বা হওয়ার জন্য ‘বৃদ্ধি পদ্ধতি’ সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এই পদ্ধতির দ্বারা ইনজেকশনের সাহায্যে মানবদেহে হরমোন বৃদ্ধি করা হয়, কিন্তু এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং খুবই ব্যয়বহুল। 

২। নিয়মিত দুধ পান আপনাকে লম্বা করতে সাহায্য করবে কারণ ক্যালসিয়াম আপনার শরীরের হাঁড় এর বৃদ্ধি ঘটায়। আমেরিকায় গরুর খাবারের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয় যার মাধ্যমে হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং সেই প্রকিয়াজাতকরণ দুধ হয় সাধারণ দুধ এর বিকল্প।

৩। নিয়মিত কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম শরীরে হরমোন বৃদ্ধি করে। এর মাধ্যমে হরমোনের মাত্রা আরও উন্নত করার জন্য এটি বহুল পরিচিত এবং পদ্ধতিটি খুবই কার্যকর। অতিরিক্ত পেশী আরো সাহায্য করবে আপনাকে আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী হতে।

৪। তীব্র স্প্রিন্টিং ব্যায়াম মানব বৃদ্ধির হরমোনে একটি বিস্ফোরণ ঘটায়। এছাড়া মানুষের হরমোনকে আরো বেশি উন্নত করে। যে কোনও কঠিন শারীরিক ব্যায়াম লম্বা হতে সাহায্য করবে। তবে সেটা অবশ্যই ২১বছর বয়স হওয়ার পর।

৫। Niacin এক ধরনের প্রাকৃতিক ভিটামিন নামক ভিটামিন B3। গবেষণা থেকে জানা যায়, ৫০০ গ্রাম নিয়াসিন গ্রহণ করা মানুষের থেকে সাধারণ মানুষের বৃদ্ধি কম ঘটে।

৬। স্ট্রেস অথবা মানসিক চাপ যেটা হচ্ছে আপনার লম্বা বৃদ্ধি হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বাঁধা। এর মাধ্যমে আপনার  হরমোনের মাত্রা কমে যায় এবং করটিসল উৎপাদিত হয়। ভিটামিন C সম্পূরকসমূহ (সাপ্লিমেন্ট) যা করটিসল কমাতে জোর সহায়তা করে।

৭। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমান । এটি সবচেয়ে সহজ এবং অনেক ভালো কার্যকরী উপায়। সঠিক, পর্যাপ্ত এবং সুন্দর ভাবে ঘুমানো আপনার দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির মাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলে।

লম্বা হওয়ার উপায় বিস্তারিত

লম্বা হওয়ার উপায় কি

লম্বা হওয়ার উপায় নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেই চলুন,

১। শারীরিকভাবে লম্বা হতে আজই নিজেকে মানসিক চাপ মুক্ত করুন

লম্বা হওয়ার উপায় শরীর বৃদ্ধিতে হরমোনের গুরুত্ব অনেক বেশি। ছেলে এবং মেয়ে সবারই শরীরের উচ্চতা নির্ধারন করে তাদের হরমোনর উপর। আপনি যদি কোনো মানসিক চাপে থাকেন তাহলে আপনার হরমোন তৈরিতে বাধা হতে পারে। স্ট্রেস ফ্রি থাকুন, আনন্দে থাকুন, মানসিক চাপ মুক্ত থাকুন।

২। ব্যায়াম করুন নিয়মিত

আপনার শারীরিক উচ্চতা বাড়াতে প্রতিদিন ১ ঘন্টা ব্যায়াম করুন। যেমন- সাতাঁর কাটুন, সাইকেল চালান, দড়ি লাফান, রিং টানুন ইত্যাদি ব্যায়াম করতে পারেন। জিমে জয়েন করলে তো আরো ভাল হয়।

নিচের ব্যায়াম গুলো অভ্যাস করতে পারেন

ব্যায়াম শরীরের বৃদ্ধিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্ত আমরা অল্প কয়েক দিন ব্যায়াম করেই ভালো ফল য়াশা করি যেটা করলে হবে না। ২-৩ মাস ব্যায়াম করলে আপনি মোটামুটি ভালো ফল পেত পারেন। আর যেকোন ব্যায়াম করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। 

  • আর ব্যায়াম করার আগে অবশ্যই শরীর গরম করে নিবেন। নিচে কয়েকটি সহজ ব্যায়ামের উপায় দেয়া হলো,
  • আপনি সমতল মেঝেতে প্রথমে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ুন। তারপর হাতের তালুতে ভর করে শরীরের উপরের অংশটি আস্তে করে উপরে তুলুন। তারপর মেরুদন্ড বাঁকা করে মাথাটা যত পারেন বাঁকা করুন।
  • হাটুঁ ভাজঁ করে কিছুটা বাঘের মতো হাতের তালু এবং পায়ের হাটুঁতে ভর দিয়ে বসুন। তারপর আপনার মাথাকে উপরের দিকে বাকাঁ করে আপনার পিঠকে নিচের দিকে কিছুটা বাকিয়ে নিন। এবার মাথাকে নিচের দিকে নিন এবং পিঠকে উপর দিকে বাকিয়ে তুলুন। ১০ সেকেন্ড পর পর বেশ কয়েকবার এমন করুন।
  • সমতল মেঝেতে  দুই পা দুই দিকে ছড়িয়ে দিয়ে বসুন। তারপর হাটু ভাজঁ না করেই ডান হাটুঁতে নাক লাগানোর চেষ্টা করুন। তারপর বাম  হাটুঁতে নাক লাগানোর চেষ্টা করুন। এভাবে ১০ সেকেন্ড পর পর বেশ কয়েকবার করুন। 
  • উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। এরপর হাতের তালু এবং পায়ের পাতার উপর ভর করে শরীরটি উপর দিকে বাঁকিয়ে উঁচু করে তুলে ধরুন মাথা নিচে রেখে। ১০ সেকেন্ড পর পর বেশ কয়েকবার এমন করুন।
  • সোজা হয়ে মেঝেতে শুয়ে পড়ুন। হাটু ভাঁজ করে পায়ের গোড়ালী আপনার নিতম্বের কাছে নিয়ে আসুন। এরপর গোড়ালী হাত দিয়ে চেপে ধরুন। এরপর কোমড় সহ নিতম্ব উপরের দিকে উঠান। মাথা নিচের দিকে থাকবে। এভাবে ১০ সেকেন্ড থাকুন।

৩। ঘুম

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। ঘুম আপনার শারীরিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ২০ বছরের কম বয়সের মানুষ ৮ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুমান। পরিমান মত ঘুমালে আপনার শরীরে ঠিকঠাক হরমোন তৈরি এবং লম্বা হতে সময় পায়। তাই নিয়মিত একই টাইমে ঘুমানো অভ্যাস করুন। গভীর এবং ঠিকঠাক ভাবে ঘুমালে পিটুইটারী গ্লান্ড থেকে গ্রোথ হরমোন বের হতে সাহায্য করে।

৪। নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে অবশ্যই দূরে থাকুন

নেশা জাতীয় দ্রব্য যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর ঠিক তেমনি শরীরের হরমোনের পরিমান কমিয়ে আনে। নেশা শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। আজকেই মদ, ধূমপান, এসব নেশা ছেড়ে দিন।

৫। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন

লম্বা হওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে চর্বিযুক্ত প্রোটিন খান। সয়া, মটরশুটি এবং বাদামের মতো চর্বিযুক্ত প্রোটিনগুলো আপনার পেশীর বৃদ্ধি এবং হাড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সাধারণ কার্বোহাইড্রেট যেমন কেক,পিজ্জা, মিষ্টি এবং সোডা থেকে দূরে থাকার মতো খাদ্য গ্রহন করুন।

প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম খান। পাতলা সবুজ শাকসবজী যেমন, পালংশাক জাতীয় খাবারে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম। এটা স্বাস্থ্যকর হাড়ের উন্নতিতে সহায়তা করে

জিঙ্কের অভাবে দেহের বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। তাই দেহের বৃদ্ধির জন্য অথবা লম্বা হওয়ার জন্য জিঙ্কের অভাব পূরন করতে হবে। জিঙ্কের অভাব পূরন আপনার লম্বা হওয়ার উপায় কে সহজ করে।

কি কি খাবারে জিঙ্ক পাবেন?

  • গরু এবং ভেড়ার মাংসে উচ্চ হারে জিঙ্ক পাওয়া যায়।
  • গরু এবং খাসির কলিজায়
  • দুগ্ধজাত সকল খাদ্য
  • আটা ময়দার রুটি
  • মসুর ডাল
  • শিম জাতীয় উদ্ভিদ
  • চীনাবাদাম
  • মাশরুম
  • সমূদ্রের মাছ

পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি আপনার হাড় এবং পেশী বৃদ্ধিতে উন্নতি করে। দুধ জাতীয় খাবারে এবং মাশরুম জাতীয় খাবারের মধ্যে পরিমিত পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। তবে আপনার ভিটামিন ডি এর সিংহভাগই সূর্যের আলো থেকে আসে। তাই দিনে গড়ে ১৫ মিনিট রোদে বের হওয়া নিশ্চিত করতে পারেন।

আপনি সরাসরি সূর্যের আলো থেকেই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি পেতে পারেন। তবে কেবলমাত্র কার্যকর হবে যদি অতিবেগুনী রশ্নি বি (ইউভিবি) হার খুব কম হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে আপনি অতিবেগুনী রশ্মির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। খুব সকালে, এবং সন্ধ্যার আগের রোদে বের হতে পারবেন। সকালে এবং বিকালে রোধে প্রচুর ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।

আমাদের আরো লেখা পড়তে লিখবে সবাই ব্লগের হোম পেইজে ভিজিট করুন। ধন্যবাদ।


আমাদের আরো ব্লগ পড়ুন