ডায়াবেটিস কমানোর উপায়‚ কারণ‚ লক্ষণ এবং প্রকারভেদ

স্বাস্থ্য

আজকের এই লেখায় ডাবেটিসের কারণ, ডায়াবেটিস কমানোর উপায় এবং সবচেয়ে বড় কথা, ডায়াবেটিস নিয়ে একদম বিস্তারিত লেখা হবে। বিশ্বব্যাপী ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৭৫ শতাংশ মানুষ সুগার অর্থাৎ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। বর্তমান সময়ে একটি বড় সমস্যা হলো এই ব্লাড সুগার । ডাক্তারের দেয়া ঔষধের পাশাপাশি সুগার কমানোর জন্য ঘরোয়া উপায় বেশ কার্যকর। এই লেখায় এই সম্পর্কীত নির্দেশেনাও দেয়া হবে।

একটি গবেষণায় বলা হয়েছে‚ যখন সুগারের একজন রোগী সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় অথবা চিকিৎসা না করেন, তখন সেটা শরীরের স্বাস্থ্যের ঝুঁকির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

সুগার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আপনাদেরকে অবশ্যই স্বাস্থ্য এবং খাবারের উপর মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি ঘরোয়াভাবে ডায়াবেটিস কমানোর উপায় যেগুলো অনুসরণের মাধ্যমে নিজের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের আনা সম্ভব।

এই লেখায় যা যা আছে

ডায়াবেটিস কি/ব্লাড সুগার কি?

ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। এটাকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে। ডায়াবেটিস এর কারণে মূলত আমাদের রক্তে সুগার বা গ্লুকোজের পরিমাণ অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যায়।

ডায়বেটিস হওয়ার কারণে আপনার শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা কার্যকর ভাবে সেটা ব্যবহার করতে পারে না। হার্ট ডিজিজ‚ স্ট্রোক‚ কিডনি ইত্যাদি বিভিন্ন রোগের জন্য ডায়াবেটিস মেলিটাস দায়ী।

ব্লাড সুগার বা ডায়াবেটিস হল এমন একটি অবস্থা যা শরীরে রক্তের গ্লুকোজ প্রক্রিয়ার ক্ষমতা হ্রাস করে। যদি সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া না হয়, ডায়াবেটিস রক্তে শর্করার সৃষ্টি করতে পারে, যা হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

সুগার সাধারণত ডায়াবেটিস নামে পরিচিত। ডায়াবেটিস একটি বংশগত বা জীবনধারা রোগ। এই রোগটি বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। ধরন অনুযায়ী এর সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন।

ডায়াবেটিস কেন হয়/ ব্লাড সুগার কেন হয়?

আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তা মূলত শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট। আর এই শর্করা হলো গ্লুকোজ এর উৎস। রক্তে গ্লুকোজ প্রবেশের পরপরই শুরু হয় ইনসুলিনের কাজ।

ইনসুলিন হলো এক ধরনের হরমোন যা গ্লুকোজকে মানুষের দেহের কোষগুলোতে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। সেই গ্লুকোজ থেকেই শরীরে শক্তি উৎপাদন হয়। এখন যদি কোনো কারণে শরীর স্বাভাবিক কর্মদক্ষতা হারিয়ে ফেলে তাহলে রক্তে গ্লুকোজ এর মাত্রা বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিস কমানোর উপায় কি

আমাদের শরীরের মধ্যে যখন অগ্ন্যাশয় সঠিকভাবে ইনসুলিন তৈরি করে না বা আমাদের দেহের কোষগুলো সেই ইনসুলিনকে ঠিকভাবে গ্রহণ করতে সক্ষম হয় না, তখন সেই ব্যক্তি ডায়াবেটিস বা সুগারে আক্রান্ত হয়।

গ্লুকোজ বা ব্লাড সুগার হল আমাদের রক্তের প্রধান চিনি। আমরা যে খাবারটি খাই সেটা থেকে গ্ল‌ুকোজ পেয়ে থাকি। এই চিনি শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং শরীরের অঙ্গ‚ স্নায়ুতন্ত্র‚ এবং পেশীর পুষ্টি সরবরাহ করে।

সংক্ষেপে ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ কি তা জেনে নেই,

  • ইনসুলিন বা ঔষধের ডোজ সঠিক না থাকলে।
  • অতিরিক্ত দুঃচিন্তা করলে। 
  • মানসিক চাপেও সুগার লেভেল বেড়ে যায়।
  • ব্যায়াম বা ডায়েট না করলে।
  • ইনফেকশন থাকলে।
  • অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়গুলোতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে‚ সেজন্য এগুলি আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিবে।

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ

সাধারণত ২ ধরণের ডায়াবেটিস হয়। টাইপ-১ এবং টাইপ-২। আপনার শরীরে কোন ধরণের ডায়াবেটিস তা নির্ণয় করেই চিকিৎসা শুরু করা উচিত।

টাইপ-১ঃ যখন মানুষের শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে অক্ষম হয়, তখন টাইপ-১ ডায়াবেটিস হয়। যাদের এই ধরণের ডায়াবেটিস আছে তাদের শরীর ঠিকভাবে কাজ করানোর জন্য কৃত্রিম ইনসুলিনের উপর নির্ভর করতে হবে।

ডায়াবেটিস কমানোর উপায় কি কি

টাইপ-২ঃ টাইপ-২ হলো টাইপ-১ এর ঠিক বিপরীত। যখন শরীর ইনসুলিন উৎপাদন করতে থাকে এবং এটি ইনসুলিনকে অন্যভাবে ব্যবহার করে‚ এবং মানব শরীরের কোষগুলি কার্যকরভাবে এতে সাড়া দেয় না। টাইপ-২ সবচেয়ে সাধারণ ধরনের ডায়াবেটিস এবং এটি স্থূলতার সাথে যুক্ত বলে পরিচিত।

প্রি-ডায়াবেটিসঃ যখন সুগার লেভেল স্বাভাবিক পর্যায় থেকে একটু বেশি থাকে, সেটাকে প্রি-ডায়াবেটিস বলে।

অন্যান্য ধরণের ডায়াবেটিসের মধ্যে রয়েছে‚

  • মনোজেনিক ডায়াবেটিস
  • গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিস
  • সিস্টিক ফাইব্রোসিস-সম্পর্কিত ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিসের লক্ষণ কি কি?

ডায়াবেটিসের লক্ষণ প্রথম পর্যায়ে বুঝার পরপরই যদি চিকিৎসা করা যায় তাহলে জীবনের ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস করা যায়। শরীরে নীচের এই লক্ষণগুলি থাকলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে কিনা। চলুন জেনে নিই ডায়াবেটিস রোগের লক্ষন সমূহ কি কি।

১। ঘন ঘন প্রস্রাব

প্রথমে খেয়াল করবেন আপনার দিনে কতবার প্রস্রাব হয় বা ঘনঘন প্রস্রাব হয় কিনা। কারণ একজন স্বাভাবিক এবং সুস্থ ব্যক্তির দিনে ৬ থেকে ৭ বার প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক। তবে প্রস্রাব যদি তার থেকে বেশি পায়, তাহলে এটি সন্দেহের প্রাথমিক কারণ হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতানুসারে‚ যদি একজন সুগার আক্রান্ত ব্যক্তির সুগার লেভেল বেড়ে যায় তাহলে তার ঘন ঘন প্রস্রাব পায়। তাদের শরীরে এবং রক্তে চিনির মাত্রা বেশি থাকে। এই অতিরিক্ত পরিমাণের চিনিকে কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। তাই কিডনি রক্তকে ​​পরিশোধন করার কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব পায়।

২। ওজন হ্রাস

বিভিন্ন কারণে ওজন হ্রাস হয়ে থাকে। তবে ধারণা করা হয়ে থাকে বা বলা হয়ে থাকে‚ ডায়াবেটিসের শুরুর দিকে হঠাৎ  ওজন কমে যায়। এইধরনের লক্ষণ দেখলে একবার টেস্ট করিয়ে নেওয়া ভালো হবে।

ইনসুলিনের অভাব রক্তে থাকা গ্লুকোজ শরীরের কোষগুলিতে পৌঁছতে পারে না এবং কোষগুলি শক্তি হিসেবে গ্ল‌ুকোজকে ব্যবহার করতে পারে না। এর ফলে ওজন হ্রাস হয়।

৩। ক্ষুধা ও ক্লান্তি

আপনার যদি সুগার হয়, তাহলে পুরো দিনের মধ্যে বেশিরভাগ সময় খিদে পাবে এবং শরীরে এক ধরনের ক্লান্তি অনুভব করবেন। অতিরিক্ত পরিমাণে ক্লান্তি লাগা বা খিদে লাগা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে।

ইনসুলিনের মাধ্যমে তৈরি না হলে, রক্তে উপস্থিত থাকা গ্ল‌ুকোজ শরীরের কোষগুলিতে পৌঁছতে পারে না। এর ফলে সারাদিন শরীর ক্লান্ত লাগে। এতে একজন স্বাভাবিক ব্যক্তির চেয়ে আপনি খুব বেশি ক্ষুধার্ত বোধ করবেন এবং ক্লান্ত অনুভব করবেন।

৪। তৃষ্ণার্ত বোধ

অতিরিক্ত তৃষ্ণার্ত বোধ সুগারের অন্যতম লক্ষণ। সুগার হওয়ার শুরুর দিকে রোগী অনেক তৃষ্ণার্ত বোধ করে। যেহেতু ডায়াবেটিস রোগীরা ঘন ঘন প্রস্রাব করে, তাই তাদের দিনে ঘন ঘন পিপাসা পায়।

৫। ইনফেকশন

আপনার শরীরে কি খুব বেশি ইনফেকশন হয়? অথবা ইনফেকশন হলে সেই ক্ষত সারছে না? তাহলে আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। কারণ ইনফেকশন ডায়াবেটিসের অন্যতম লক্ষণ। ডায়াবেটিস রোগীদের ইনফেকশন বা ক্ষত হলে স্বাভাবিকের তুলনায় সারতে অনেকটা সময় লাগে।

৬। চামড়া অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া

সাধারণ শীতকালে অথবা অন্য কারণে আমাদের চামড়া শুকিয়ে যায়। তবে সবসময় ঘন ঘন চামড়া শুকিয়ে যাওয়া সুগারের লক্ষণ। কারণ এই রোগের  ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার স্কিন আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে।

কিভাবে বুঝবেন আপনার ডায়াবেটিস কি না? ডায়াবেটিস এর স্বাভাবিক মাত্রা কত?

আপনার উপরোক্ত লক্ষণগুলো থাকলে রক্তের সুগার লেভেল টেস্ট করাতে পারেন। সুগার লেভেল এর মাত্রা স্বাভাবিক মাত্রা থেকে বেশি হলে বুঝতে হবে আপনার শরীরে ডায়াবেটিস রয়েছে।

ডায়াবেটিস মাত্রা (diabetes range)তে সুগাল লেভেল কত হলে বুঝবেন আপনার ডায়াবেটিস?

  • সাধারণত রেন্ডম ব্লাড সুগারে ১১ মি.মো./লি. এর বেশি হলে ধরে নিতে পারেন আপনার শরীরে ডায়াবেটিস আছে।
  • ফাস্টিং ব্লাড সুগারে ৭ এর মি.মো./লি. এর বেশি হলে ধরে নিতে পারেন আপনার শরীরে ডায়াবেটিস আছে।
  • তাছাড়া সকালে খালি পেটে মাপলে যদি ৫.৬ মি.মো./লি. এর  কম হয় তাহলে ধরে নিতে পারেন  আপনার ডায়াবেটিস নেই।
  • আর যদি ৫.৬ থেকে ৬.৯ মি.মো./লি. এর মধ্যে হয় তাহলে  ধরে নিবেন আপনার প্রিডায়বিটিস।

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যেটা একদম নিরাময় করতে পারবেন না‚ কিন্ত আপনি ডায়াবেটিস কমিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। নিচে কিছু সহজ পদ্ধতিতে ডায়াবেটিস কমানোর উপায় দেয়া হল‚

১) নিয়মিত ব্যায়াম করুন

নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে মাঝারি ওজন পেতে সাহায্য করবে এবং সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহযোগীতা করবে।

দৌড়ানো‚ দ্রুত হাঁটাচলা‚ ওজন উত্তোলন‚ নাচ‚ বাইক চালানো‚ হাইকিং এবং সাঁতার কাটা ইত্যাদি ব্যায়ামগুলো করতে পারেন।

ব্যায়ামগুলোর মধ্যে একটি সেরা এবং সহজ ব্যায়াম হচ্ছে হাঁটাহাঁটি করা। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটবেন। এটি ইনসুলিন মাত্রাকে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।

নিয়মিত ব্যায়াম আপনার ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। তাছাড়া প্রি-ডায়াবেটিস থেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া থেকেও রোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

২) খাদ্য তালিকা থেকে শর্করা ও চিনিজাতীয় খাবার বাদ দিন

কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বা চিনিযুক্ত খাবার খেলে ডায়াবেটিস ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ডায়াবেটিস হয়ে যেতে পারে।

প্রি-ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে চিনির পরিমাণ থাকে বেশি। সেজন্য শর্করা ও চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে রক্তের মধ্যে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত হারে বেড়ে যেতে পারে।

৩৭ টি গবেষণার দেখা গেছে যে‚ সর্বোচ্চ কার্বোহাইড্রেট গ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা ৪০% বেশি। তাই ডায়াবেটিস ঝুঁকি কমাতে এই ধরনের খাবার এড়ানো উচিৎ।

৩) পানি নিয়মিত পান করতে হবে

নিয়মিত পানি পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রাখতে সহায়তা করে। ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করার পাশাপাশি‚ এটি প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত চিনি বের করিয়ে আপনার কিডনিকে ভাল রাখতে সাহায্য করে।

একটি গবেষণায় দেখা যায় যে‚ যারা দিনে বেশি পানি পান করে তাদের রক্তে সুগার লেভেল বাড়ার ঝুঁকি কম।

তাই নিয়মিত পানি পান করলে (মাত্রাতিরিক্ত না) রক্তকে রিহাইড্রেট করতে সাহায্য করে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

আর চিনিযুক্ত পানীয় ওজন বাড়ায়‚ রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়‚ এবং সেই সাথে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ায়।

৪) ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া বাড়ান

ফাইবারযুক্ত খাবার রক্তে সুগার ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্টের রােগাশঙ্কা এবং ডায়াবেটিসের আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করে।

দুই ধরণের ফাইবার রয়েছে‚

অদ্রবণীয়ঃ টমেটো‚ গাজর‚ বাদাম ইত্যাদি

দ্রবণীয়ঃ আপেল‚ ওটস‚ বার্লি‚ ডাল ইত্যাদি

যদিও এই দুইটাই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দ্রবণীয় ফাইবার স্পষ্টভাবে রক্তের মধ্যে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে বেশি ভূমিকা পালন করে।

যেসব খাবারে ফাইবার বেশি থাকে তার মধ্যে রয়েছেঃ কলমি শাক‚ মিষ্টি আলুর শাক‚ পুঁইশাক মুলা‚ পুদিনা পাতা‚ ঢেঁড়স‚ বাঁধাকপি ফুলকপি, ডাঁটা‚ গাজর‚ওলকপি‚ ফল ইত্যাদি।

মহিলাদের দৈনিক প্রায় ২৫ গ্রাম এবং পুরুষদের প্রায় ৩৮ গ্রাম ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিৎ। এটি প্রতি ১০০০ ক্যালরির জন্য প্রায় ১৪ গ্রাম। এটি প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

৫) কম গ্লাইসেমিক খাবার গ্রহণ করুন

গ্লাইসেমিক সূচক আমরা কীভাবে খাবার হজম করি বা শোষণ করি তা পরিমাপ করে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির হারকে প্রভাবিত করে। কম গ্লাইসেমিক যুক্ত খাবার ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে সুগার লেভেল কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

যদিও খাবারের গ্লাইসেমিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তবে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিম্ন থেকে মাঝারি গ্লাইসেমিক সূচক সমৃদ্ধ খাবারের তালিকা দেয়া হল‚

  • ইয়োগার্ট
  • বার্লি
  • মটরশুটি
  • ওটস
  • মসুর ডাল
  • গমের পাস্তা ইত্যাদি

কম গ্লাইসেমিকযুক্ত খাবার বাছাই করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করুন।

৬) স্ট্রেস লেভেল ম্যানেজ করতে হবে

মানসিক চাপ বা স্ট্রেস রক্তে সুগার লেভেলকে প্রভাবিত করে। কার্টিসেল এবং গ্লুকাগন মতো এক রকমের হরমোন স্ট্রেসের সময় নিঃসৃত হয়। এই হরমোনগুলি রক্তের মধ্যে সুগার লেভেল বাড়িয়ে দেয়।

মেডিটেশন এবং ব্যায়াম রক্তে সুগার লেভেল কমায় এবং স্ট্রেসকে হ্রাস করে। রিলাকজেশন ব্যায়াম মানসিক চাপ কমায়। যার ফলে রক্তে সুগার লেভেলকে নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

৭) পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের অভাব রক্তের সুগার লেভেল এবং ইনসুলিন মাত্রাকেও প্রভাবিত করে। যা ক্ষুধা এবং ওজন বৃদ্ধি করতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব গ্রোথ হরমোনের পরিমাণ কমায় এবং কর্টিসলের মাত্রা বাড়ায়। এই দুটোই রক্তের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পর্যাপ্ত ঘুম আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

৮) আপেল সিডার ভিনেগার

আপেল সিডার ভিনেগারের বিভিন্ন উপকারিতা রয়েছে। এটি রক্তে সুগার লেভেলকে কমাতে সহায়তা করে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে‚ ভিনেগার আপনার শরীরের শর্করার পরিমাণ বা মাত্রাকে প্রভাবিত করে। এটি পানির সাথে মিশিয়ে উচ্চ কার্বোহাইড্রেট খাবার খাওয়ার আগে পান করতে পারেন।

যাই হোক‚ যদি আপনি ডায়াবেটিসের ঔষধ খেয়ে নেন তাহলে আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই প্রথমে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিৎ।

৯) দারুচিনি

দারুচিনি ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রন করে এবং একইসাথে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। এটি রক্তের মধ্যকার সুগার লেভেলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে‚ দারুচিনি‚ রক্তে থাকা সুগারের মাত্রা ২৯% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।

আপনি ১ কাপ গরম পানির মধ্যে ১/২ থেকে ১ চা চামচ দারুচিনি মিশিয়ে প্রতিদিনই পান করতে পারেন। আপনি চা এবং মিষ্টান্নগুলিতে দারচিনি মিশিয়েও খেতে পারেন।

১০) মেথি

মেথি বীজ আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে। কারণ ফাইবার যুক্ত থাকায় এটি রক্তের মধ্যে সুগার লেভেল কমাতে সাহায্য করে।

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে‚ মেথি ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের সুগার লেভেলকে ভালোভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

ডায়াবেটিস দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে কমানোর জন্য ২ চা চামচ মেথি বীজ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন এবং প্রতিদিন সকালে খালি পেটে থাকা অবস্থায় সেই পানি পান করুন। এ ছাড়া গরম বা ঠান্ডা পানি বা দুধের সাথেও মেথি বীজের গুঁড়ো খেতে পারেন।

১১) পরিমিত ওজন বজায় রাখুন

একটি পরিমিত ওজন বজায় রাখা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

এমনকি শরীরের ওজন ৭% কমলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ৫৮% পর্যন্ত কমতে পারে। এটি একটি সাধারণ ডায়াবেটিস ঔষধের চেয়েও ভাল কাজ করে বলে মনে হয়।

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে , প্রি ডায়াবেটিস সহ ১০০০ এরও বেশি মানুষের প্রতি কেজি (২.২ পাউন্ড) ওজন হারানোর জন্য, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৬% কমেছে, সর্বোচ্চ ৯৬% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিস বাড়ানোর সম্ভাবনা বাড়ায়। আর যদি ওজন কমিয়ে নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেন তাহলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যাবে।

দেহের ওজন স্বাস্থ্যকর মাত্রায় নিয়ন্ত্রিত রাখার মধ্য দিয়ে ডায়াবেটিস সহ আরও বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

১২) ডায়েটে কম কার্বোহাইড্রেট খাবার রাখুন

ডায়েটে খুব কম কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার রাখলে সেটা আপনাকে ডায়াবেটিস এড়াতে সাহায্য করতে পারে। যার ফলে ধারাবাহিকভাবে রক্তের শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং বাকি সব ডায়াবেটিসের ঝুঁকির কারণগুলো কমিয়ে দিতে সহায়তা করে।

একটি ১২ সপ্তাহের গবেষণায় দেখা গেছে যে‚ প্রি-ডায়াবেটিক ব্যক্তিরা কম-কার্বযুক্ত বা কম চর্বিযুক্ত খাবার খায়। ফলে লো-কার্ব গ্রুপে রক্তে  ইনসুলিন ৫০% হ্রাস এবং শর্করার পরিমাণ ১২% হ্রাস পেয়েছে। এদিকে রক্তে শর্করার পরিমাণ মাত্র ১%‚ কম চর্বি গ্রুপে‚ এবং ইনসুলিন ১৯% হ্রাস পেয়েছে।

আপনি যদি খাবারে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেন‚ তাহলে খাবার গ্রহণ করার পর আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি বাড়বে না। সুতরাং‚ আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিকঠাক রাখতে আপনার কম ইনসুলিনের প্রয়োজন হবে।

তাই খুব কম কার্ব ডায়েট বা কেটোজেনিক অনুসরণ করলে রক্তে শর্করার এবং ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে‚ যেটা ডায়াবেটিস থেকে আপনাকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে।

১৩) অ্যালোভেরার ব্যবহার

অ্যালোভেরার জেলে একটি শক্তিশালী উপাদান রয়েছে যার নাম হলো ‘ফাইটোস্ট্যারলস’। এটি আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে‚ ‘ফাইটোস্ট্যারলস টাইপ-২’ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য উপকারী। প্রতিদিন ২ বার করে পানির সঙ্গে তেজপাতা‚ হলুদ‚ ও অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে পান করুন। এটা আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

১৪) নিয়মিত আপনার সুগার লেভেল পরীক্ষা করুন

নিয়মিত রক্তের গ্লুকোজের লেভেল পর্যবেক্ষণ এবং পরিমাপ করুন। এটা আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ যদি বলি‚ নিয়মিত সুগার লেভেল পর্যবেক্ষণ,খাবার কিংবা ঔষধের অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হবে কিনা সেটা নির্ধারণ করতে সহায়তা করে।

এটি নির্দিষ্ট কোনো খাবার আপনার শরীরে কীভাবে প্রতিক্রিয়া বা রিয়েকশন দেখায় তা জানতেও সহায়তা করবে।

১৫) ধূমপান ছেড়ে দিন

ধূমপান এমফিসেমা‚ হৃদরোগ‚ এবং স্তন‚ ফুসফুস‚ এবং বিভিন্ন ক্যান্সার সহ অনেক গুরুতর রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

এক মিলিয়নেরও বেশি লোক নিয়ে একটি গবেষণার দেখা গেছে‚ ধূমপায়ীদের মধ্যে গড়ে ৪৪% এবং প্রতিদিন ২০ টিরও বেশি সিগারেট যারা খায় তাদের মধ্যে ৬১% ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রয়েছে!

বিশেষ করে যদি বলি তাহলে ভারী ধূমপায়ীদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক বেশি। তবে ধূমপান ছেড়ে দিলে সময়ের সাথে এই ঝুঁকি কমতে পারে।

১৬) ভিটামিন ডি লেভেল ঠিক রাখা

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ‘ভিটামিন ডি’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে‚ যে মানুষজন পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি পায় না এবং যাদের রক্তে ভিটামিন ডি এর মাত্রা অনেক কম, তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি খুবই বেশি। অনেক স্বাস্থ্য সংস্থা শরীরে ভিটামিন ডি’র মাত্রা কমপক্ষে ৩০ মি.লি. বজায় রাখার সুপারিশ দিয়েছেন।

অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে‚ যাদের রক্তে ভিটামিন ডি’র মাত্রা কম তাদের চাইতে যাদের রক্তে ভিটামিন ডি’র মাত্রা বেশি তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমপক্ষে ৪৩% কম।

আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে‚ যারা ভিটামিন ডি গ্রহণ করে তাদের মধ্যে ইনসুলিন উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পায়‚ রক্তে সুগার লেভেল স্বাভাবিক হয়‚ যেটার ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকাংশেই হ্রাস পায়।

সূর্যের আলো, সামদ্রিক মাছ যেমন- টুনা‚ ডিমের কুসুম‚ সার্ডিন মাশরুম ইত্যাদি খাবার ভিটামিন ডি এর ভালো উৎস।

যকে সঠিকভাবে উন্নত করতে প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া কমিয়ে দিন।

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে‚ পরিশোধিত শস্য‚ উদ্ভিজ্জ তেল ইত্যাদি খাওয়া কমিয়ে দিলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমতে ভালোই সাহায্য করে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার (যেমনঃ পিজ্জা‚ ফ্রাইস‚ বার্গার ইত্যাদি) গ্রহণ করার ফলে হজমে সমস্যা‚ উচ্চ কোলেস্টেরল‚ এবং হৃদরোগের মতো বিভিন্ন ধরনের কঠিন রোগ দেখা দিতে পারে। এই সব খাবার দেহের ইনসুলিনের মাত্রাকে খুবই ভারসাম্যহীন করে ফেলে। যেটা থেকে ডায়াবেটিস রোগ হওয়া অস্বাভাবিক কিছুনা।

১৮) কফি বা চা পান করার অভ্যাস করুন

একটি গবেষণায় দেখা যায়‚ চা কিংবা কফি ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করলে সেটা আপনাকে ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করতে পারে।

একই গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিন কফি পান করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৮–৫৪% কমে যেতে পারে।

চা বা কফিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যেটা পলিফেনল নামে পরিচিত এবং এটি ডায়াবেটিস থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে। চা বা কফি রক্তের শর্করার লেভেল কমিয়ে দিতে সাহায্য করে যেটা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি ভালোই হ্রাস করতে পারে।

১৯) প্রাকৃতিক ঔষধ গ্রহণ

প্রকৃতিতে কিছু ভেষজ আছে যেগুলো ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়াতে এবং ডায়াবেটিসের সম্ভাবনাকে কমিয়ে দিতে ঝুব ভালো সাহায্য করতে পারে। সেগুলোর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য হলো‚

ক. কারকিউমিন

কারকিউমিন হল হলুদের মশলার একটি উপাদান‚ যেটা তরকারির অন্যতম প্রধান একটি উপাদান।

এক গবেষণায় দেখা গেছে,প্রি-ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এবং আর্থ্রাইটিসের বিরুদ্ধে এটি কার্যকরী হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে এটি সহায়তা করে।

২৪০ প্রি-ডায়াবেটিক প্রাপ্তবয়স্কদের ৯ মাসের গবেষণায় দেখা গেছে‚ যারা দিনে ৭৫০ মিলিগ্রাম কারকিউমিন গ্রহণ করে তাদের মধ্যে কারও ডায়াবেটিস হয় নি। তাছাড়াও‚ কারকিউমিন গ্রুপ সুগার লেভেলকে নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিস কমিয়ে দিতে সহায়তা করে।

খ. বারবেরিন

বিভিন্ন ঔষধিতে বারবেরিন পাওয়া যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে‚ এটি কোলেস্টেরল এবং অন্য বিভিন্ন হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায়।

এছাড়াও‚ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে‚ বারবেরিন আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে ভালোভাবেই সাহায্য করে।

প্রকৃতপক্ষে‚ ১৪ টি গবেষণার একটি বিশ্লেষণে এবং ব্যাখ্যায় দেখা গেছে যে‚ বারবারিন রক্তে শর্করার মাত্রাকে কমিয়ে নিয়ে আসার জন্য মেটফর্মিনের মতো ভালোই কার্যকর‚ যেটা বহুল ব্যবহৃত এবং প্রাচীনতম ডায়াবেটিসের ঔষধ।

যেহেতু বারবেরিন ইনসুলিনের সংবেদনশীলতাকে বাড়িয়ে দেয় এবং শর্করার মাত্রা কমিয়ে দিতে কাজ করে‚ সেহেতু এটি প্রি-ডায়াবেটিস রোগীদেরকে ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা করতে খুব ভালো সাহায্য করতে পারে।

যেহেতু রক্তে শর্করার উপর এর প্রভাব খুবই প্রবল‚ সেহেতু এটি ডাক্তারের পরমার্শ ছাড়া অন্যান্য ডায়াবেটিস ঔষধের সাথে ব্যবহার করা উচিত নয়।

২০) ঘরোয়া উপায়

ডায়াবেটিস কমানোর প্রাকৃতিক/ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। নিচে এর কয়েকটি নিয়ে আলোচনা করা হলো‚

ক. করলা

করলা ডায়াবেটিস ভালো করার অন্যতম মহৌষধ যেটা ইনসুলিন-পলিপেপটাইড-পি সমৃদ্ধ যা আপনার মধ্যে হাইপারগ্লাইসেমিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। মমর্ডিসিন এবং ক্যারোটিন নামক দুটি উপাদান করলাতে থাকে যেটা রক্তে সুগার লেভেল কমাতে ভালোই সহায়তা  করে।

ডায়াবেটিস কমাতে সপ্তাহে একবার করলা তরকারি পান করুন। তাছাড়া আপনি করলার টুকরোগুলি কেটে রস তৈরি করতে পারেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে সংরক্ষিত এই রস পান করুন। এটা আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।

খ. নিম

নিম বিটা ইনসুলিন আপনার মধ্যে সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে। এটা রক্তে শর্করার মাত্রাকে ভালোই কমাতে সাহায্য করে এবং হাইপোগ্লাইকাইমিক ড্রাগের উপর নির্ভরতা কমাতে সহযোগীতা করে। নিমের রস আপনার ডায়াবেটিস নিরাময়ে ভূমিকা পালন করে।

গ. আমের পাতা

আমের পাতা ডায়াবেটিসের চিকিৎসা এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকরী ঘরোয়া উপায়। আমের পাতা ডায়াবেটিসের প্রাথমিক চিকিৎসায় আপনি ব্যবহার করতে পারেন। কারণ এতে আছে ভিটামিন-সি‚ এ এবং ট্যানিন।

আমের পাতাগুলোকে ধুয়ে শুকিয়ে গুঁড়ো করে  প্রতিদিন সকালে এবং রাতে এই গুঁড়ো পানি পান করতে পারেন। কিছু তাজা আমের পাতা সিদ্ধ করে নিয়ে এক গ্লাস পানিতে সারা রাত রেখে দিন। তারপর সকালে উঠে খালি পেটে এটা পান করুণ। তাছাড়াও আমলকি‚ সজনে পাতা‚ এবং তুলসি পাতা ইত্যাদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

আমাদের আরো ব্লগ পড়তে এখানে ভিজিট করুন। ধন্যবাদ।

ফ্রিকুয়েন্টলি আসকড কোয়েশ্চন

প্রশ্নঃ মিষ্টি খেলেই কি শুধুমাত্র ডায়াবেটিস হয়?/ মিষ্টিই কি ডায়াবেটিসের একমাত্র কারণ?

উত্তরঃ শুধুমাত্র চিনি বা মিষ্টি খেলেই ডায়াবেটিস বা সুগার হবে তা কিন্তু নয়। মানসিক চাপের কারণেও সুগার বা ডায়াবেটিসের মাত্রা বাড়ে। 

প্রশ্নঃ একজন ডায়াবেটিসের রোগীর নিয়মিত কতক্ষণ হাঁটা উচিত?

উত্তরঃ একজন সুগার বা ডায়াবেটিসের রোগীর নিয়মিত কমপক্ষে ২০-৩০ মিনিট হাঁটা উচিত। 

প্রশ্নঃ মেথি কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে?

উত্তরঃ মেথি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খুবই ভালো কাজ করে।

প্রশ্নঃ কতটা পরিমাণ মেথি খাওয়া ভালো খাওয়া ভালো? 

উত্তরঃ একজন সুগারের রোগীদের কতটা পরিমাণ মেথি খেতে পারবে তা সুগারের লেভেলের উপর নির্ভর করে। সাধারণত ৩ থেকে ৫ গ্রাম মেথি খাওয়া ভালো বলে মনে করা হয়।


আমাদের আরো ব্লগ

শেয়ার করুন