গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

স্বাস্থ্য

আজকের এই ব্লগে গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করবো। গর্ভকালে নারীদের বিভিন্ন ধরনের হরমোন এবং শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন দেখা দেয়। তার মধ্যে হরমোনের উচ্চমাত্রাসহ বেশ কিছু ঝুঁকির বা রিস্কের কারণে কারো কারো ডায়াবেটিস হতে পারে। 

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের অন্যতম একটি প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত ওজন। গর্ভধারণের আগে মায়ের ওজন যদি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে‚ সেক্ষেত্রে গর্ভকালীন অবস্থায় ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। 

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দেয় যদি পরিবারে কারো যদি ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকে‚ আগের সন্তান ধারণের সময় ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকে‚ প্রি–ডায়াবেটিস‚ পলিসিস্টিক ওভারি‚ কায়িক শ্রমের ঘাটতি ইত্যাদি থেকে থাকে। 

তবে শুরু থেকেই যদি কেউ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস করে থাকেন তাহলে সহজেই গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কমানোর উপায় কি?

সাধারণত সন্তানধারণ করার ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মা ও গর্ভে থাকা শিশু দুজনেরই শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কমানোর উপায় কি

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়‚ সন্তান প্রসবের পর নারীর দেহের সুগার আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যায়। যদিও দেখা যায়‚ সন্তান জন্মের পরবর্তীকালে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা রয়েই যায়।

গর্ভকালে আপনি খুব কঠোর খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। তার কারণ হলো‚ এই সময় মায়েদের অতিরিক্ত ক্যালরির প্রয়োজন হয়। মায়ের শরীরের জন্য চাই সঠিক পুষ্টিও। 

কাজেই খাবারের ধরন কিংবা পছন্দ পাল্টাতে হবে। সে কারণে সবচেয়ে ভালো হয় হিসাব করে সঠিক মাত্রায় শর্করা‚ ক্যালরি‚ আমিষ‚ চর্বি‚ এবং ভিটামিন–মিনারেলসসহ সঠিকভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্যতালিকা করা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে এই ক্যালরির মাত্রায় কিছুটা কিংবা বড়সড় পরিবর্তন করতে হবে।

এছাড়াও গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কমানোর উপায় গুলো হলো‚

  • ডায়াবেটিসে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীরা প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ বার স্বল্প থেকে মাঝারি পরিমাণে খাবার খাবেন। এর সঙ্গে ২ থেকে ৪ বার হালকা খাবারও খাবেন। খাবারে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সঠিক এবং সুষমভাবে থাকতে হবে।
  • গর্ভবতী নারীর রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দৈনিক খাদ্যতালিকায় আঁশসমৃদ্ধ খাবার যোগ করতে হবে। যেমন‚ তাজা শাকসবজি‚ হোল গ্রেইন (সম্পূর্ণ শস্য)‚ ফল ইত্যাদি।
  • সরল শর্করার (যেমন‚ গ্লুকোজসমৃদ্ধ খাবার কিংবা যেকোনো চিনি বা মিষ্টিযুক্ত খাবার‚ কিংবা চাল বা সাদা রুটি) পরিবর্তে জটিল শর্করা যেমন‚ লাল আটা‚ ওটস‚ লাল চাল‚ গোটা শস্য বেছে নিতে হবে। 
  • গর্ভবতী নারীরের প্রতিদিনের খাবারে ১০ গ্রাম করে আঁশ সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ বাড়ালে সেই নারীর ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে মায়ের পুষ্টি চাহিদাও খুব ভালোভাবেই পূরণ হবে।
  • জটিল শর্করার পাশাপাশি গর্ভকালীন অবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীদের পুষ্টিকর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। এর মধ্যে মাছ‚ ডিম‚ মুরগি‚ টফু‚ শুঁটি‚ বিনস জাতীয় খাবার উল্লেখযোগ্য।
  • এর পাশাপাশি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ, পালংশাক, বাদাম‚ ছোট মাছসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। এ ছাড়া অসম্পৃক্ত চর্বিসমৃদ্ধ খাবার যেমন অলিভ অয়েল‚ পিনাট অয়েল‚ সামুদ্রিক মাছ (সারডিন‚ স্যালমন‚ টুনা), অ্যাভোকাডো‚ চিয়া সিডস ইত্যাদি গর্ভবতী মায়ের খাদ্যতালিকায় যোগ করতে হবে।
  • যেসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে‚ সেগুলো এই সময় এড়িয়ে চলতে হবে। 
  • প্রক্রিয়াজাতকৃত চিনিযুক্ত খাবারও এড়িয়ে চলা উচিত। এ ধরনের খাবারের মধ্যে কেক‚ ক্যান্ডি‚ কুকিজ‚ আইসক্রিম‚ কোমল পানীয়‚ পেস্ট্রি ইত্যাদি অন্যতম। 
  • এ ছাড়াও স্টার্চ (শ্বেতসার) জাতীয় খাবার (যেমন সাদা ভাত‚ সাদা আলু‚ সাদা পাউরুটি) রক্তে শর্করার ওপর ভালোই প্রভাব ফেলতে পারে।
  • গর্ভবতী নারীর প্রতিদিনের রুটিনে নিয়ম করে বিভিন্ন ধরনের মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম (হাঁটা‚ ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ‚ সাঁতার) করতে হবে। এতে গর্ভবতী নারীর ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পাশাপাশি তাদের রক্তে শর্করার মাত্রাও ঠিকঠাক থাকবে।

লেখাটির মূল লেখকঃ ফারজানা শবনম‚ নিউট্রিশনিস্ট অ্যান্ড ডায়েট কনসালটেন্ট, লেজার মেডিকেল সেন্টার লি.‚গুলশান শাখা।

আমাদের আরো ব্লগ পড়ুন এখানে। ধন্যবাদ।

আমাদের আরো ব্লগ পড়ুন

শেয়ার করুন