ভাষা কাকে বলে তার পূর্ণ ব্যাখ্যা

ছোট প্রশ্নের ছোট উত্তর শিক্ষালয়

আজকের এই লেখায় ভাষা কাকে বলে তা নিয়ে বিস্তারিত লিখবো। পৃথিবীতে থাকা প্রাণি জগতের মধ্যে মানুষ জাতিই শ্রেষ্ঠ। শুধু বুদ্ধি‚ জ্ঞান‚ মেধার জন্যই নয়‚ অন্যান্য প্রাণি থেকে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব লাভের অন্যতম মাধ্যম বা কারণ হলো ভাষা। আমরা আমাদের মনের কথা অন্যের কাছে সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে চাই যে সে সিহজে বুঝতে পারে।এই ভাব প্রকাশ করার মাধ্যমই হলো ভাষা।

আমরা মানুষজন প্রত্যেকেই কিছু বলতে চাই। শুধু মানুষই না, অন্যান্য প্রাণিরাও তাদের মনের ভাব অন্যদের সাথে প্রকাশ করতে চায়। তাই হয়তো গাভীর ডাক শুনলে বাছুর দৌড়ে আসে। পাখির ছানা গুলো কিচিরমিচির করে ডাকলে‚ মা পাখি তাদের জন্য খাবার নিয়ে আসে। 

তারমানে বুঝা যায় সবারই ভাষা আছে। সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করবার জন্য বিভিন্ন ধরনের সংকেত ব্যবহার করে আসছে। সেই সংকেত থেকেই মূলত ধ্বনির সৃষ্টি হয়েছে।

ভাষা কাকে বলে এবং কি

অর্থাৎ মানুষ নিজের প্রয়োজনে ভাষা রপ্ত করেছে ।তাহলে বুঝা যাচ্ছে‚

১। ভাব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম হল ভাষা।

২। মানুষ নিজের প্রয়োজনে এবং অন্যের সাথে ভাবের আদানপ্রদানের উদ্দেশ্যে ভাষা ব্যবহার করতে থাকলো 

৩। এক কথায় ভাষা হল ভাব প্রকাশের মাধ্যম।

ভাষা কাকে বলে?

মানুষ জাতি মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য অন্য মানুষের বোধগম্য যে ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টিকে উচ্চারণ করে থাকে‚ তাকে বলে ভাষা।

বাগযন্ত্রের সাহায্যে তৈরি করা অর্থবোধক ধ্বনির সংকেতের সাহায্যে মানুষ মানুষের সাথে মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকেই ভাষা বলে। এখানে বাগযন্ত্র হলো গলনালি‚ কন্ঠ‚ জিহ্বা‚ মুখবিবর‚ তালু‚ নাক‚ দাঁত‚ ইত্যাদির সমাবেশ।

আরো সহজভাবে যদি বলি তাহলে, মানুষ তার মনের ভাব অন্যের সাথে প্রকাশ করার জন্য তার কন্ঠনিঃসৃত বা মুখ থেকে বেরিয়ে আসা অর্থপূর্ণ আওয়াজ কিংবা ধ্বনির সমষ্টিকে বলা হয় ভাষা।

“মানুষ জাতি যে ধ্বনি বা ধ্বনিসকল দ্বারা অন্যের সাথে মনের ভাব প্রকাশ করে‚ তার নাম ভাষা”।

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি মানুষের বাক যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত হয় এবং যার মাধ্যমে অন্যের সাথে মনের ভাব প্রকাশ করা হয় তাকে ভাষা বলে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, যেকোনো রকমের ধ্বনি হলেই তা ভাষা হবে না। যেমন হাততালি দিয়ে অন্যকে ডাকা কিংবা ইশারায় কথা বলা এগুলো কোনো ভাষা নয়। 

“মানুষ মনের ভাব প্রকাশের জন্য‚ বাগযেন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি দ্বারা নিষ্পন্ন‚ কোনো বিশেষ জনসমাজে ব্যবহৃত‚ স্বতন্ত্রভাবে অবস্থিত‚ তথা বাক্যে প্রযুক্ত‚ শব্দসমষ্টিকে ভাষা বলে”।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

আমাদের মনে রাখতে হবে‚ ভাষা হল ধ্বনিসমষ্টি এবং একইসাথে তা অর্থবহ। আবার উচ্চারণ যোগ্য ধ্বনি হলেই কিন্তু তা যে ভাষা হবে তা না। সে উচ্চারণে অবশ্যই হতে হবে অর্থবহ। অর্থাৎ শুধুমাত্র মনের ভাব প্রকাশের উপযোগী উচ্চারণ বা ধ্বনিই হল ভাষা।

আমাদের আরো লেখা পড়ুন এখানে। ধন্যবাদ।


আমাদের আরো ব্লগ পড়ুন

শেয়ার করুন