অনলাইন ব্যবসা

অনলাইন ব্যবসা যেভাবে শুরু করবেন (গাইডলাইন)

ব্যবসা অনলাইন ব্যবসা
শেয়ার করুন

অনলাইন ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন

কিছু ফ্যাক্টরকে মাথায় রেখে অনলাইন ব্যবসায় হাত দিতে হবে। অনলাইন ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন তা বলার পূর্বে ফ্যাক্টরগুলো নিয়ে কথা বলবো। এগুলো সমস্যা হলেও আমি আপনার কাছে প্রতিটা ফ্যাক্টর অনুযায়ী একটা করে প্রশ্ন রেখে যাবো। আপনি তখন নিজেই বুঝে যাবেন এই ফ্যাক্টরগুলো আসলেই সমস্যা কিনা! আবার এই ফ্যাক্টর এবং তা থেকে প্রশ্নগুলো ক্রেতার উদ্দেশ্যেও করা!

ফ্যাক্টরগুলো অথবা অন্যভাবে বললে অনলাইন ব্যবসার কিছু ধারণা হলো

অনলাইনে ব্যবসা

অনলাইন ব্যবসার কিছু ধারণা হলো,

  • অনলাইনের প্রোডাক্টের উপর মানুষের ভরসা কম।
  • অনলাইনে ধোঁকাবাজি হয়।
  • মানুষ বিশ্বাস করে অনলাইনে দাম বেশি রাখা হয়।
  • যে প্রোডাক্ট মানুষ পাশের দোকানে পেয়ে যায় তা অনলাইনে কুরিয়ার চার্জ খরচ করে অর্ডার দিতে চায়না।
  • অনলাইন ব্যবসার ভবিষ্যত ভালোনা।
  • অনলাইনের পণ্যগুলোর মান ভালো হয়না।
  • যে প্রোডাক্ট হাতে দেখে চেক করে কেন যায় সে প্রোডাক্ট খুব কম কাস্টমারই অনলাইনে অর্ডার দেয়।

প্রতিটা ফ্যাক্টর বা চিন্তা অনুযায়ী সমাধান

অনলাইন বিজনেস

 

এই ফ্যাক্টরগুলো আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগীতা করবে,

  • অনলাইনের ব্যবসার উপর মানুষের ভরসা কম কেন? সেটার জন্য অনলাইনে ব্যবসা করা একটা অংশ দায়ী। তবে তাও মানুষ অনলাইনে কিনছে। তাহলে আপনি সৎ মানুষ হলে কেন পারবেন না?
  • আপনি কি ধোঁকাবাজ? যদি উত্তর না হয়ে থাকে তাহলে অনলাইনে ব্যবসা করতে পারেন।
  • আপনি প্রোডাক্ট তৈরি/কেনার খরচ+অন্যান্য খরচের সাথে হিসাব মিলিয়ে বাজারে প্রচলিত দাম অনুযায়ী বা তার চেয়ে ৫ টাকা কমে বিক্রী করুন! অসুবিধা আছে? লাভ কম হবে? লাভের আশায় যেখানে হাত দিবেন সেখানে কয়দিন পর ইন্টারেস্ট চলে যাবে।লাভ না খুঁজে লেগে থাকলে ম্যাজিক দেখতে পারবেন!
  • অনলাইনে ব্যবসা করে সাফল্যের পেছনে একটাই শর্ত। আর সেটা হলো ‘বি ডিফারেন্ট’। দেখুন বাজারে প্রতিটা দোকানে চা পাতা পাওয়া যায়। কিন্তু আমিও অনলাইনে চা পাতার ব্যবসা করি। তাও আমার বিক্রী হচ্ছে। তার প্রধান কারণ দোকানে পাওয়া চা পাতা থেকে আমার চা পাতাগুলো ডিফারেন্ট হচ্ছে। মানুষ ভিন্ন স্বাদ পাচ্ছে। যারা একবার কিনেছে তারা আবার কিনছে। সো কমন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করলেও আপনার ওই প্রোডাক্টের নতুন কোনো কিছু থাকা লাগবে। এটাই শর্ত।
  • কে মান ভালো রাখছে না রাখছে তা আপনার দেখার বিষয় না। আপনি প্রোডাক্টের মান ভালো রাখলেই হবে। আপনার ব্যবসা ধীরে ধীরে আগাবে। কিন্তু ব্যবসার আয়ে একটা ধারাবাহিকতা থাকবে। যারা খারাপ পণ্য নিয়ে ব্যবসা করে তারা হুট করে উপরে উঠে আবার ধপাস করে পড়ে যায়। কয়দিন পর তাদের কোনো খবরই পাওয়া যায়না।

অনলাইন ব্যবসা করতে গেলেই মাথা নষ্ট হয়ে যায় ভাবতে ভাবতে। কি করা যায়? আপনাকে ভাবাভাবি থেকে মুক্ত করতেই প্রশ্ন অনুযায়ী একে একে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছি আমি।

কিভাবে অনলাইন ব্যবসা শুরু করা যায়?

ফেসবুকে ব্যবসা

অফলাইনে যেভাবে শুরু করবেন ঠিক সেভাবে অনলাইন ব্যবসা শুরু করবেন। শুধুমাত্র ইচ্ছাটাই প্রয়োজন আর ধৈর্য। প্রথমত অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে গেলে আপনার আইডিয়া লাগবে। কি প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করবেন,আপনার কাস্টমার কারা,আপনার কাস্টমারদের বয়স কত থেকে কত হতে পারে এসব ব্যাপার আপনাকে ভেবে নিতে হবে।

এ ছাড়াও আরো অনেক ব্যাপার আপনাকে প্রথমেই ভেবে বের করে নিতে হবে। নাহলে হুট করে একটা প্রোডাক্ট নিয়ে মাঠে নেমে দিশেহারা হয়ে যাবেন। চকলেট পছন্দ করা মানুষের কাছে যেয়ে যদি টুথপেস্টের বিজ্ঞাপন দেন তাহলে লাভ হবে? এজন্যই এসব এনালাইজ করা প্রয়োজন।

আর কি কি লাগে অনলাইনে ব্যবসার জন্য?

অনলাইন ব্যবসা কিভাবে

এই অংশটি আপনাদের জন্য গুরুত্বপূর্ন। পয়েন্টগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন,

  • সর্ব প্রথম আপনাকে একটা সুন্দর ব্যবসায়ীক নাম নির্ধারণ করতে হবে। অফলাইনে দোকানের নামের মতো না। একটু আকর্ষণীয়,ক্রিয়েটিভ নাম দিবেন।
  • একটা সাজানো গুছানো ফেসবুক পেইজ। একটা ভালো লগো আর কাভার ফটো অত্যন্ত জরুরি। পেইজ খোলার আগেই এগুলো বানিয়ে নিবেন। আগের মতো সাধারণ ফেসবুক পেইজ নেই এখন আর। সম্পূর্ণ ব্যবসায়ীক লুক আনা হয়েছে।
  • পেইজ সাজানোর পর আপনার দায়িত্ব হলো ফ্রেন্ড লিস্টের সবাইকে ইনভাইট দেয়া। পেইজ না সাজিয়ে ইনভাইট দেয়া শুরু করবেন না। আপনার কাছে একটা পেইজের ইনভাইট আসলে পর যদি পেইজে ঢুকে দেখেন সবই হাবিজাবি তাহলে আপনার বিরক্ত লাগবেনা?
  • তারপর ইউটিউবে একটা চ্যানেল খুলে নিবেন। এখন আমাকে আপনি প্রশ্ন করতে পারেন যে ইউটিউবে কেন চ্যানেল খুলবো? খুলবেন কারণ আপনাকে ভিডিও বানাতে হবে। মানুষ এখন প্রচুর ভিডিও দেখে। তাই ভিডিও হতে পারে আপনার পণ্য বিক্রীর অন্যতম হাতিয়ার!
  • আপনাকে কন্টেন্ট তৈরি করা জানতে হবে। সেটা হোক লেখা,সুন্দর ছবি, আকর্ষণীয় ভিডিও ইত্যাদি। বলা হয়ে থাকে যে ‘কন্টেন্ট ইজ কিং’। মানসম্মত কন্টেন্ট ছাড়া আপনি অনলাইনে ব্যবসা করতে পারবেন না।
  •  ফেসবুক মার্কেটিং শিখতে হবে। অনেকে ফেসবুক মার্কেটিং মানেই ধরে নেন বুস্ট করা। না। বুস্টিং ছাড়াও মার্কেটিং করা যায়! সেটা আবার অফ পেইজ এসইও এর ভিতরে পড়ে। উফ! আবার এসইও! এসইও গাইডলাইন পড়ে আসতে পারেন।
  •  ফেসবুক লাইভ। এটা আরেকটা পাওয়ারফুল টুল। সবাই দেখেন যে ফেসবুকে মেয়েরা লাইভে এসে তাদের বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিক্রী করছে। এভাবে বেশি মানুষের কাছে ভিডিও পৌছায়।
  • ফেসবুক পেইজে একটা শপ খুলবেন যেখানে আপনার প্রতিটা প্রোডাক্টের দামসহ বিস্তারিত থাকবে।
  •  অতিরিক্ত কম দামে পণ্য বিক্রী করবেন না। আবার অতিরিক্ত দামেও পণ্য বিক্র‍য় করবেন না। মার্কেটে চলমান দাম থেকে ৫ টাকা কমানো যায়। ৩০/৪০ টাকা না। কারণ আপনি একবার দাম কমালে পরে দাম অনেক বেড়ে গেলেও আবার বাড়াতে পারবেন না। তখন কাস্টমার হারাবেন। আর আপনার অতিরিক্ত মূল্য হ্রাসের ফলে অনেক কষ্টে দাঁড় করানো ব্যবসাগুলোকেও নষ্ট করতে পারেন।

অনলাইনে ব্যবসা করতে ট্রেড লাইসেন্স লাগে?

ফেসবুক বিজনেস

অনলাইন ব্যবসা করতে ট্রেড লাইসেন্স লাগে। যেকোনো ব্যবসা হোক। ট্রেড লাইসেন্স করে নিবেন। এখন আপনি আমাকে বলবেন যে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করার আগেই ট্রেড লাইসেন্স কেন। অনলাইনে আবার কিসের লাইসেন্স? লাইসেন্স করিয়ে নেয়াটা হলো আপনার দায়িত্ব। আর ট্রেড লাইসেন্স মানেই বৈধতা। এ ছাড়া তো অবৈধ ব্যবসা করছেন আপনি!

তবে নিজে তৈরি বা ঘরোয়া খাবারের ব্যবসায় ট্রেড লাইসেন্স জরুরি কিনা সেটা নিয়ে দ্বিধা আছে। তবে আপনার খাবারের মান ভালো কিনা সেটা চেক করার অধিকার অবশ্যই প্রশাসনের রয়েছে। তাই সাধু সাবধান! কাউকে ঠকালে কিন্তু সোজা ‘ভোক্তা অধিকার আইনে’ মামলা করে দিবে।

আজ এতোটুকু পর্যন্তই। একমালিকানা নাকি অংশীদারি ব্যবসা করবেন তা নিয়ে আমাদের লেখাটি পড়তে পারেন। পরবর্তীতে অন্য আরেকটা লেখা নিয়ে হাজির হবো আশা করি। ভালো থাকবেন সবাই।

আমাদের আরো ব্লগ পড়ুনঃ