ধর্ষণের মূল কারণ ও আমাদের ভুল (পর্ব-১)

ধর্ষণের মূল কারণ ও আমাদের ভুল (পর্ব-১)

মতামত
Spread the love

আচ্ছা কখনো কি একটু গভীরে যেয়ে ভেবে দেখেছেন যে ধর্ষণ হবার কারণ কি! ধর্ষণ কেন হয়? আজকে ধর্ষণের মূল কারণ ও আমাদের ভুল লেখায় তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

অনেকের ধারণা অন্যান্য কথিত সভ্য দেশ বা সভ্য সমাজের চেয়ে বাংলাদেশেই ধর্ষণ বেশি হয়! এ ধারণাটি কতটুকু সত্য? ধর্ষন মামলায় অভিযুক্ত মানুষের বিচার ছাড়াই ফাঁসি চাওয়া কতটুকু যৌক্তিক?
কিছু ভয়ানক ব্যাপার আপনার ভাবা উচিত,বোঝা উচিত।

লেখার প্রথমেই দুইটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করবো। এই দুইটা বিষয়ে আমি বুঝানোর চেষ্টা করেছি পত্রিকার ব্যবসা, পরিসংখ্যান এসব নিয়ে। আমরা সারা বছর কিছুই জানিনা। কিন্তু হুট করে নির্দিষ্ট একটা অপরাধ ঘটতে থাকে কেন?

পত্রিকার ব্যবসা

মনে করুন আমি বিভিন্ন দেশের ধর্ষণের একটা পরিসংখ্যান আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম।
আপনি দেখলেন অমুক দেশে ১০% ধর্ষণ রেট আর তমুক দেশে ১৫% ধর্ষণ রেট।
এসব পরিসংখ্যান দেখে কখনো একটা দেশের ধর্ষণের মাত্রা আপনি অনুধাবনও করতে পারবেন না।
কারণ পরিসংখ্যান শুধুমাত্র একটা সংখ্যা প্রকাশ করে।
পরিসংখ্যান নিয়ে যারা পড়ালেখা করেছেন তারা আমার কথাটি উপরের লাইন দ্বারাই বুঝে যাবেন।

আর যারা পরিসংখ্যানের শুভঙ্করের ফাঁকিটা বুঝেন না তাদের জন্য একটু সহজভাবে ব্যাখ্যা করি।
পরিসংখ্যানের শুভঙ্করের ফাঁকির উদাহরণটা ধর্ষণ রেট দিয়েই দেই।

মনে করুন, একটা দেশে ১ কোটি মানুষ বাস করে।
১ কোটি মানুষের মধ্যে ধরুন এক পরিবারে ২ জন করে মানুষ।
অর্থাৎ ওই দেশে টোটাল ঘর ৫০ লক্ষ।
এখন পরিসংখ্যানবিদদের পক্ষে কি সম্ভব ৫০ লক্ষ ঘরে ঘরে যেয়ে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা?

তাই উনারা যেটা করেন সেটা হলো ১ কোটি মানুষের থেকে নির্দিষ্ট কিছু মানুষ বাছাই করেন(ধরে নিন ১ কোটি মানুষের উপর জরিপের জন্য উনারা বাছাই করেন ১০ হাজার মানুষ)।
তারপর এই ১০ হাজার মানুষের উপর জরিপ চালিয়ে যে উত্তর পান সেটাকেই ১ কোটি মানুষের উপর জরিপ বলে চালিয়ে দেয়া হয়।

যদি পরিসংখ্যানবিদরা উল্লেখ করেও থাকেন যে ১ কোটি লোকের মধ্যে ১০ হাজার লোকের উপর এই জরিপ চালানো হয়েছে তাও আমরা সাধারণ লোকেরা অবচেতন মনে ধরে নেই ১ কোটি লোকের উপর জরিপ চালানো হয়েছে।অর্থাৎ যে রেট নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা পুরো দেশের পরিস্থিতি বলে ধরে নেই আমরা।

আপনি বা আমি এটাই তো করি তাইনা?
অন্য দেশের সাথে নিজের দেশের পার্থক্য দেখাতে যেয়ে আমরা সবসময় বলি,”অমুক দেশে এতো কম ধর্ষণ রেট,আমাদের দেশে এতো বেশি কেন?”
এই চিন্তাটা আসে অবচেতন মনে একটা সংখ্যাকে পুরো দেশের অবস্থা ধরে নেয়ার ফলে।
শুভঙ্করের ফাঁকিটা এখানেই!

আর এসবের কারণেই আমরা সবসময় অন্য দেশের সাথে নিজের দেশের তুলনা করে ছোট করে দেখি।
অর্থাৎ এক প্রকার দেশটাকে ছোট করে দেখি।
এখানে যে ব্যাপারটি ঘটে সেটাকে ‘তথ্য ঘাটতি’ বলা হয়।

তার মানে বাংলাদেশের যে ধর্ষণ রেট বা এতো এতো ধর্ষণ হচ্ছে সব মিথ্যা? তাহলে বাংলাদেশের ধর্ষণ রেট স্বাভাবিক?

না। মিথ্যা না। ধর্ষণ রেট অতিরিক্ত। কিন্তু আমি এই বিষয়টা তুলে ধরার পেছনে মূল কারণ হলো “কয়টা ধর্ষণের ঘটনা আমাদের চোখের সামনে আসে?খুবই সামান্য!”তবে অন্য দেশের সাথে তুলনা করবেন না।যদি করে থাকেন তাহলে কয়টা ঘটনার বিচার হচ্ছে তা নিয়ে কথা বলুন। সঠিক তুলনা করুন। যে দেশে সঠিক এবং দ্রুত বিচার হচ্ছে সেই দেশে ধর্ষণের ঘটনাও কম। আমাদের দেশে রায়ের বাস্তবায়ন হতে হতে আরো হাজারো এমন কেস জমা পড়ে যায়!আসল সমস্যা তো এখানে! এটাকে নিয়ে কথা বলুন।

তথ্য ঘাটতি

দ্বিতীয় বিষয়টা হলো এই তথ্য ঘাটতি।
তথ্য ঘাটতি ব্যাপারটা অনেকে বুঝেন না।

এটাকে দুইটা দেশের উদাহরণ না দিয়ে দুইটা গ্রামের উদাহরণ দিবো আমি সহজভাবে বোঝার জন্য।
কারণ দেশ তো দূরের কথা, পেপার পত্রিকা ছাড়া আমরা পাশের গ্রামের খবরই জানিনা একপ্রকার!
পাশের গ্রামে কি ঘটছে কয়জন জানেন?
এক দুইটা ঘটনা হয়তো কানে আসে কিন্তু সবকিছু জানেন আপনি?
জানেন না।

তেমনি দুইটা আলাদা শহর বা দেশের বিভিন্ন ঘটনা আমাদের না জানাই স্বাভাবিক।
এই জানানোর কাজটা করে থাকে পত্রিকা।
হ্যাঁ দৈনিক পত্রিকা বা অন্যান্য পত্রিকা(বর্তমানে সেগুলো ডিজিটাল হওয়ায় তথ্য সংগ্রহ দ্রুত হয়েছে)।
এখানে আরেকটা শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে!

মনে করুন, আপনার বাড়ির পাশের একটা মেয়ের সাথে খারাপ কিছু হলো।
এটা কোনো পত্রিকায় আসলোনা।
সত্যিকার অর্থে আপনি বা আপনার গ্রামের লোক ছাড়া আর কেউ জানবেওনা এই ঘটনা।
যদি লোকাল পত্রিকায় এই খবর প্রকাশিত হয় তাহলে শুধু আপনার উপজেলা বা জেলার লোক জানবে।
আর জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলে জানবে পুরো দেশ।
আর আন্তর্জাতিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলে জানবে পুরো বিশ্ব।

আর এই পেপার পত্রিকায় প্রকাশিত ঘটনা এবং থানায় করা মামলার ভিত্তিতেও ধর্ষণের সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
কিন্তু যেগুলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়না এবং থানায় মামলা হয়না সেগুলো কিন্তু আমাদের অজানাই থেকে যায়!
মূলত এই ব্যাপারটাই ঘটে।
এটাকেই তথ্য ঘাটতি বলে।

আমেরিকায় কি কি ঘটছে আপনি কি প্রতিদিন খোঁজ নিচ্ছেন?
আমেরিকা ছাড়ুন,পাশের দেশ ভারতের কয়টা খবর পড়েন আপনি বা কয়টা খবর আপনার চোখের সামনে আসে?
যা আসে সব বাংলাদেশের।
আর আমরা ধরে নেই এসব ঘটনা শুধু বাংলাদেশেই ঘটে যাচ্ছে।
আর কোথাও এগুলো ঘটেনা।
এটাই ‘তথ্য ঘাটতি’।

এই ধর্ষণ শুধু আমাদের দেশেই নয়,পুরো বিশ্বেই মারাত্মকভাবে আছে।
কয়েকটা রাষ্ট্র আছে যেগুলোতে এসব কম হয়।
কম হয় বলার চাইতে বলা ভালো ওসব রাষ্ট্র আবার এই শারীরিক সম্পর্কগুলাকে উন্মুক্ত করে দেয়ায় হয়তো এসব ধর্ষণ লিস্টে আসছেনা।
ওদের কাছে হয়তো এসব খুব স্বাভাবিক।

এতক্ষণ চেষ্টা করলাম আপনাদের একটা ভ্রান্ত ধারণাকে ভাঙ্গতে।
কারণ ধর্ষণ নামক জঘন্য কাজটা শুধু আমাদের দেশেই নয়,এই বিষক্রিয়া ছড়িয়ে আছে পুরো পৃথিবী জুড়ে।
শুধু নিজের দেশের দোষ না দিয়ে নিজে যদি ঠিক থাকি এবং সময়মতো প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করতে পারি তাহলেই এর সমাধান আসবে।
অন্যথায় সমাধান আসবেনা।

তবে সবাই একটা ব্যাপারে একমত থাকবেন যে বাংলাদেশ তথা পুরো উপমহাদেশেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ না করলে সমাধানই আসেনা! যখন জনগন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে কোনো ইস্যু নিয়ে তখন এটা বোঝা যায় যে দেশের অবস্থা স্বাভাবিক নয়।

ধর্ষণের পেছনে মূল কারণ কি?

দেখুন এটাকে ব্যাখ্যা করার অনেক অনেক পয়েন্ট আছে।
অনেক জ্ঞানীগুণী মানুষজন এসব নিয়ে লেখালেখি করেছেন।
কিন্তু আমার লেখা মূলত ‘চিন্তার বাইরের চিন্তা’র উপর ভিত্তি করে লেখা।

অনেকে বলে থাকেন বিভিন্ন সিনেমা,গানে বা লেখায় সেক্সুয়াল বিষয়াদিগুলো পুরুষদের ধর্ষণের প্রতি আকৃষ্ট করে।
আমার প্রশ্ন হলো কয়জন এসব দেখে ধর্ষণ করে?
আপনার আশেপাশে তাকিয়ে দেখুন তো কয়জন পাচ্ছেন যে একটা মুভির সেক্সুয়াল ক্লিপ দেখামাত্র ধর্ষণে লিপ্ত হয়েছে

এখন আসি আসল কথায়।
ধর্ষণের মানসিকতা তৈরি হওয়াটা একটা ‘প্রসেস’।
প্রসেসের মধ্যে থাকে অনেকগুলো বিষয়।
মনে করুন ধর্ষক একটা হলিউড মুভির সেক্সুয়াল ক্লিপ দেখে সাথে সাথে একটা মেয়েকে ধর্ষণ করতে যাবেনা।
এই চিন্তাভাবনার পেছনে কাজ করে অনেকগুলো বিষয়।
এই ধর্ষণের যে মানসিকতা তা তৈরি হয় একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে।

প্রসেস এর মধ্যে যে সম্ভাব্য বিষয়গুলো থাকে সেগুলো হতে পারে,

  • সেক্সুয়াল ক্লিপ,গান,লেখা বা এ জাতীয় ইত্যাদি কন্টেন্ট। সেক্সুয়াল কন্টেন্ট মূলত ফ্যান্টাসি হয়ে থাকে।যারা এসব বুঝে তারা এই কন্টেন্টগুলো ধারা ইনফ্লুয়েন্স হয়না।তবে যারা এগুলোকে সত্য ধরে নেয় তাদের মনে হয় যে এগুলো বাস্তবেও সম্ভব।এসব কন্টেন্টে দেখায় যে ছেলে যেমনই হোক মেয়েদের একটু চাপ দিলেই ওরা এসবে রাজি হয়ে যায়।প্রথমে মেয়েরা না করলেও পরে তারা রাজি হয় এটাই বোঝায়।তাই তারা(যারা এসব দেখে ইনফ্লুয়েন্স হয়) বাস্তবেও মেয়েদের ফোর্স করে বা চাপ দিতে যায়।তখনই ধর্ষণের  মতো বাজে ঘটনা ঘটে যায়।তবে সবাই হয়না।যারা এরকম করে তাদের নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ নাই।তাই এসব দেখতে দেখতে নিজের উপর,বিবেকের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।পরিণত হয় একটা চলমান সাইকো রোবটে। সুযোগ পেলেই তারা হামলে পড়ে।তাই এসব কন্টেন্ট ধর্ষক তৈরির প্রধান এবং সবচেয়ে বড় প্রভাবক।
  • এসব কন্টেন্টের প্রতিটা সেকেন্ডে মেয়েদেরকে কিভাবে উপস্থাপন করা হয় আপনারা নিজেও জানেন।
  • এসব কন্টেন্টে মেয়েদের শরীর ছাড়া মূলত অন্য কিছু পুরুষ দর্শকের দৃষ্টি কাড়েনা।এখানে এসবের মাধ্যমে নারীদের প্রতি একটা সেক্সুয়াল এট্রাকশন তৈরি করার প্রবণতা তৈরি করা হয়।আমার আসলে চিন্তা হয় যে মেয়েরা এসব নাচ নাচে।টাকার জন্যই নাচে।ওরাই আবার ধর্ষণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কথা বলে।ওরা নিজেরাই তো একপ্রকার এসব ছড়িয়ে দিচ্ছে।শুধু মুভি,গান এগুলায় না।এসব ব্যাপার মানুষের মুখের কথায়ও অন্যের মধ্যে ছড়াতে পারে।
  • এসব দেখার পর পুরুষদের মাথায় মেয়েদের ছোট ছোট পোষাকের ব্যাপারটা খুব সেক্সি লাগা শুরু হয়।এখান থেকেই পোষাকের ব্যাপারটা আসতে শুরু করে।আশা করি এই ব্যাপারটা সহজে আপনাদের বুঝাতে পেরেছি।
  • এখন এমন একটা ব্যাপারে কথা বলবো যেটা এর আগে কতজন ভেবে দেখেছেন আমার জানা নাই।মেয়েদের পোষাকের একটা রহস্য আমার কখনো পরিষ্কার হয়নি।এইযে পশ্চিমাদের সভ্য জাতি বলেন,উন্নত জাতি বলেন এরা এসবের বিষ পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিচ্ছে।উদাহরণ হিসেবে মেয়েদের ছোট ছোট পোষাকের ব্যাপারটা আমি বলবো।এই সংস্কৃতি পশ্চিমাদের তৈরি।এখন অনেকেই বলতে পারেন এসব টাইট ফিট জামা কাপড় বা ছোট ছোট জামা কাপড় মেয়েদের পারসোনাল চয়েজ।আচ্ছা কখনো কি প্রশ্ন করেছেন যে মেয়েদের জন্যই কেন এসব পোষাক!ছেলেদের জন্য কেন এগুলো নাই?খেয়াল করে দেখবেন,একটা পশ্চিমা অনুষ্ঠানে সব মেয়েরা ছোট ছোট কাপড় বা পিঠ খোলা বা হাটু খোলা বা টাইট ফিট কাপড় পড়ে যায়।কিন্তু কোনো পুরুষকে কখনো হাফপ্যান্ট পড়ে অনুষ্ঠানে যেতে দেখেছেন?আবার মেয়েদের জিন্সগুলো তৈরি হয় শরীরের সাথে একেবারে ফিট করে যাতে পুরো শরীর স্পষ্ট হয়ে উঠে,কিন্তু পুরুষের জিন্সগুলো কিন্তু ঢোলাঢালা!পুরুষের আপাদমস্তক ঢাকা থাকে আর মেয়েদের প্রায় খোলামেলা।মেয়েদের সেক্সুয়াল প্রোডাক্ট হিসেবে দেখার ফলেই এই ড্রেসআপের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে ওদের।ওদের প্রতিটা মুভি,গানে বা এরকম কন্টেন্টে দেখবেন সেক্সুয়াল বিষয়গুলোকে খুব গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন করছে!যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানেও।ছোট ছোট পোষাকে সবসময় মেয়েদেরকেই উপস্থাপন করা হয়,ছেলেদেরকে উপস্থাপন করা হয়না।এসব জামাকাপড় দেখে মেয়েরা আবার এসব কিনতে বা পড়তে উৎসাহিত হয়। কিছু ব্যাপার ভাবলে উত্তর পাবেন।না ভাবলে বোকার মতো তর্কই করে যেতে হয়!
  • মেয়েদেরকে দুর্বল ভাবার মানসিকতা।
  • অন্যান্য দেশের ব্যাপারে জানিনা,তবে আমাদের দেশের একটা প্রধান সমস্যা হলো ধর্ষণের শিকার হলে মেয়েকেই ছোট করা হয়,দোষ দেয়া হয়।শুধুমাত্র এই অপবাদের কারণে সিংহভাগ মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলেও প্রকাশ করেনা।আর ধর্ষকেরা এই দুর্বলতার সুযোগটাই নেয়।এ ব্যাপারে পরিবারকে সচেতন আর বন্ধুসুলভ হতে হবে।মেয়ে যেন সবকিছু শেয়ার করে। সে প্রেম করলেও যেন ফ্যামিলির সাথে শেয়ার করার সাহস পায় এরকম বন্ধুসুলভ হতে হবে।
  •  ক্ষমতাকে অনেকে একটা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।এটাও একটা কারণ। যখন এসব সাইকো ক্ষমতা হাতে পায় তখন এই কাজে সহজেই জড়িয়ে যায়। তবে কেন জানি ক্ষমতা থাকা ধর্ষকের অপরাধই সবার সামনে আসে। আর অন্য হাজারো ঘটনাগুলো সামনে আসেনা।

এগুলো যেকোনো একটার কারণে ধর্ষণ ঘটেনা।
এসবের সম্মিলিত রূপ ধর্ষণে পরিনত হয়।
সেজন্যই আমি ধর্ষণের কারণকে একটা ‘প্রসেস’ বুঝাতে চেয়েছি।

ছোট ছোট কাপড় বা টাইট ফিট কাপড় পড়া মেয়ে দেখলেই কি ধর্ষণ করতে হবে?

এখানেই আসল সমস্যা।

আমাদের সবার যার যার ধর্মে ধর্ষণকে অন্যতম বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
সেখানে মেয়ে ছোট বা টাইট ফিট পড়লেই কি আর না পড়লেই কি।

আপনাকে মনে রাখতে হবে ধর্ষণ হলো অপরাধ।
ইসলাম ধর্মে যেমন নারীকে পর্দা করতে বলা হয়েছে,পুরুষকেও কিন্তু পর্দা করতে বলা হয়েছে।
অর্থাৎ একটা নগ্ন মেয়ে আপনার সামনে দিয়ে গেলেও নিজেকে সংযত রাখতে বলা হয়েছে।
সেখানে আপনি শুধুমাত্র কাপড়কে উদাহরণ হিসেবে টেনে এনে ধর্ষণকে ‘সঠিক’ প্রমাণ করতে পারেন না।

কোনো ধর্ষণের উদাহরণ দিতে গেলেই বলা হয় “মেয়েদের পর্দা করতে বলা হয়েছে।তারা পর্দা করছেনা বলেই এসব ঘটনা ঘটছে।”
কিন্তু কয়জন এই ব্যাপারটা মনে করিয়ে দেন যে “পুরুষদের দৃষ্টিকেও সংযত রাখতে বলা হয়েছে”?
ধর্ষণের ব্যাপারটা আসলেই আশ্চর্যজনকভাবে মেয়েদের উপর দোষ চলে যায় যেটাকে ধর্ষণের আরেকটা কারণ হিসেবে বলতে পারেন।
কারণ এতে পুরুষ পরোক্ষভাবে উৎসাহ পায়।
তাদের মনে তখন ” মেয়ের কাপড় ঠিক না থাকলে তো ধর্ষণ হবেই” এরকম একটা ধারণা জন্ম নেয়।

সবাই জানেন যে নগ্ন মেয়ে থেকে শুরু করে আপাদমস্তক কাপড় দিয়ে ঢাকা মেয়েরও ধর্ষণের ঘটনা আছে।
এমনকি বাচ্চা মেয়ে ধর্ষণের ঘটনাও আছে!!!

এসব ক্ষেত্রে মেয়ে এবং তার পরিবারের করণীয় কি?

  • প্রথমত পরিবারের উচিত ফ্রেন্ডলি হওয়া যেন মেয়ে তাদের কাছে সব প্রকাশ করতে পারে।ভয় পেয়ে অনেক মেয়ে এসব প্রকাশ করেনা।যার ফলে ধর্ষকেরা সাহস পায়,তারা ভাবে মেয়ে নিজের ইজ্জ্বত বাঁচাতে কাউকে বলবেনা।এখানে আমি পরিবারের দোষ দিবো।
  • মেয়ের উচিত এমন ঘটনা ঘটলে সেটা পরিবারকে জানানো।এখানে পরিবার যদি ফ্রেন্ডলি না হয় তাহলে মেয়ে জানাতে ভয় পাবে।এখানেও পরিবারের বন্ধুত্বসুলভ আচরণটাই মূখ্য।
  • এমন ঘটনায় দ্রুত একশন নিন।সমাজের ভয়ে চুপ থাকবেন না।নাহলে ধর্ষক এমন ঘটনা আরো ঘটাতে উৎসাহ পাবে।সমাজ কিছু ক্ষেত্রে অনেক ভালো, আবার কিছু ক্ষেত্রে ভয়ানক খারাপ।এসব ব্যাপারে সমাজ মেয়েকেই দোষারোপ করে থাকে।পরিবারের মানুষের উচিত শক্ত হাতে এই ব্যাপারটাকে প্রতিহত করা।ভুক্তভোগী মেয়ে যেন আত্মহত্যার পথ বেছে না নেয়।

সব ধর্ষণের সংবাদই কি ধর্ষণ হয়?

এখানে অবশ্য ভয়ানক একটা ব্যাপার লুকিয়ে আছে।
কোনো মেয়ে এই ব্যাপার নিয়ে অভিযোগ করলে বাছবিচার না করেই একশন নিয়ে অনেকসময় ভুলও হয়ে যেতে পারে।
পৃথিবীতে এমন রেকর্ড ভুরি ভুরি রয়েছে যে মেয়ে মিথ্যা অভিযোগ বা মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
বলিউডের ‘সেকশন ৩৭৫‘ মুভিটা এই কথাটার ব্যাখ্যা দিবে।

অনেক মিথ্যা অভিযোগের ফলে ভালো মানুষের জীবনও নষ্ট হতে পারে।
তাই এসব ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়াই সবচেয়ে সুন্দর সমাধান।
এসব ধর্ষনের মামলার বিচার যেন দ্রুত হয় সেটা করা উচিত আদালতের।
দেরি করলে এর ফলাফল হয় খারাপ।

কারণ অন্য ধর্ষকদের পথ পরিষ্কার হয়ে যায়।
তারা মনে করে “এসব ব্যাপার না।বিচার হবেনা”।
তাই বিচার প্রক্রিয়াকে খুব দ্রুত করতে হবে যেন আসল অপরাধী ধরা পড়ে,কোনো ভুল মামলা হলে যেন কারো জীবন নষ্ট না হয়।

এই লেখার দ্বিতীয় পর্বটি এখানে পড়ুন

২ thoughts on “ধর্ষণের মূল কারণ ও আমাদের ভুল (পর্ব-১)

  1. ধর্ষণের আরেকটি কম আলোচিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল ছিন্নামূল মানুষের বসবাস। প্রতিটা শহরেই বস্তি বা রাস্তায় অনেক পুরুষ থাকে, যাদের বিয়ে করে স্থায়ী সংসার করার সামর্থ্য বা যোগ্যতা নাই। রাস্তায় থাকা নেশাগ্রস্থ, পাগল, ভিক্ষুক, শারিরীক প্রতিবন্ধী পুরুষ গুলাই এই শ্রেণী ভুক্ত। এই শ্রেণীর পুরুষগুলাই সুযোগ পেলে শিশু থেকে বৃদ্ধা কাউকে ছাড়ে না, নিজেদের জৈবিক চাহিদা ঠিকই পূরণ করে নেয়।
    তাই ধর্ষণ প্রতিরোধের জন্য এই দিকেও সবার সজাগ থাকা প্রয়োজন।

    1. আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      জ্বী এটাও একটা কারণ।যদিও আমি স্পেশালি এটা নিয়ে লিখিনি তবে উপর্যুক্ত পয়েন্টের মধ্যে একটা লাইন ছিলো।যেটা হলো- “তবে কেন জানি ক্ষমতা থাকা ধর্ষকের অপরাধই সবার সামনে আসে। আর অন্য হাজারো ঘটনাগুলো সামনে আসেনা।”

      এই লাইনটাকে আপনি সুন্দর করে ব্যাখ্যা করেছেন।
      নিজের সচেতনতা আর আইনের বাস্তবায়ন ব্যতিরেকে এই অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়।
      সবাই সচেতন থাকি,প্রতিরোধ করি।
      প্রতিবাদ নয়,প্রতিরোধ করি।

      ধন্যবাদ নিপা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *