কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিক্ষার প্রস্তুতি নিবেন?

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষালয়
Spread the love

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিক্ষার জন্য প্রস্তুতি যেভাবে নিবেন

আমি ইফতেখার আহমেদ সাকিব। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়ছি। বিষয়- হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট(মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা)। আজ লিখবো কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিক্ষার প্রস্তুতি নিবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কিভাবে চান্স পাবেন সে সম্পর্কীত অনেক লেখা পাবেন চতুর্দিকে।
অমুক বই পড়ুন,তমুক বই পড়ুন।
তাহলে নিশ্চিত চান্স!
আসলেই কি তাই?

না আসলেই তাই না।
কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি সিট থাকে ১ হাজার তাহলে পরিক্ষার্থী থাকে ৫০ হাজার!
মনে করুন এই ৫০ হাজার পরিক্ষার্থীর প্রিপারেশন প্রচন্ড ভালো।
তাহলে কি এই ৫০ হাজার পরিক্ষার্থীই চান্স পাবে?
এটার উত্তরও ‘না’ হবে।

যত পরিক্ষার্থী হোক,সবার যত ভালো প্রিপারেশনই হোক, চান্স পাবে কিছু সংখ্যক পরিক্ষার্থী।
তাহলে কি পরিক্ষা দিয়ে লাভ নেই?
তাহলে কি এই লেখায় আমি আপনাদের নিরুৎসাহিত করছি?

না।
লেখাটা মনযোগ দিয়ে পড়বেন।
লেখাটা পড়ার পর সেই অনুযায়ী কাজ করুন।
আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি যে এটা আপনাকে যথেষ্ট সহযোগীতা করবে।
শেষের পয়েন্টটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে। আর আপনার জন্য ঔষধ।

লক্ষ্য নির্দিষ্ট করুন

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিক্ষার প্রস্তুতি নিতে প্রথম পদক্ষেপ হবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা।

লক্ষ্য নির্দিষ্ট মানে “বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে হবে” এরকম লক্ষ্য না।
আপনি আসলে কোন সাবজেক্টে পড়তে চান,কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান এগুলো হলো লক্ষ্য।
এটা নির্দিষ্ট করতে হবে আপনাকে।

কারণ যখন আপনি নিজেকে বুঝাবেন যে নির্দিষ্ট একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেতেই হবে তখনই আপনার মধ্যে তাড়নার সৃষ্টি হবে।আপনাকে চিন্তা করতে হবে যে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট সিট ছাড়া আর কোনো সিট নেই।তাই আপনাকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবার মতো করেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

মাথায় যদি একবার আসে যে পুরো বাংলাদেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে,অনেক অনেক সিট রয়েছে তাহলে আপনার মধ্যে একটা অলসতা তৈরি হবে।একই ভুলটা আমি করেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিক্ষার আগে।তারপর আমার টার্গেট ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অথবা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

যেকোনো সাবজেক্ট না।শুধু বিবিএর জন্য ফর্ম তুলেছিলাম।রাজশাহীতে হয়নি। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়েছে।তারপর আবার সাস্টেও চান্স পেয়েছিলাম।

লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার দ্বিতীয় পদক্ষেপ লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা করা।

লক্ষ্য ঠিক করলেই সুযোগ পাবেন যে তা না।লক্ষ্য অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

যদি টার্গেট থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাহলে আপনাকে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হবে।আমার আমার জানামতে এলাকাপ্রীতি বা পরিবারের সমস্যা না থাকলে সব পরিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ থাকে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’। তো যার যত বেশি নাম্বার হবে সেই ওখানে চান্স পাবে।

এবার গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরিক্ষা হতে যাচ্ছে সম্ভবত। আর এজন্যই ভালোমতো নিজেকে প্রস্তুত না রাখলে সুযোগ পাওয়া অনেক কঠিন! কারণ পরিক্ষা হবে একটাই।

আগে তো এক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিক্ষা দিয়ে আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিক্ষা দেয়ার আগে ওই বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়া যেত।এখন আর সুযোগ হবেনা। তাই আপনার হাতে সুযোগ একটাই!

চান্স পেতে কি বই পড়বেন?

বাজারে অনেক অনেক ভালো বই পাওয়া যায়।আপনি গুগলে সার্চ দিয়ে বা অন্য কারো থেকে জিজ্ঞেস করে অনেক আইডিয়া পাবেন। আমি বই নিয়ে কিছু বলবোনা। কারণ বই আপনাকে চান্স পাইয়ে দিবেনা যদি আপনি না পড়েন।

তাই অমুক বই ভালো,তমুক বই ভালো বলে বলে আপনাকে কনফিউসড করবোনা।সব বইয়ে একই জিনিস থাকে। শুধু পার্থক্য প্রেজেন্টেশনে। আর কিছুইনা।

তবে দয়া করে ভুল বই কিনবেন না।
আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাবার পেছনে করুণ একটা কাহিনী আছে।যেটা শুনে আপনি বুঝতে পারবেন যে ভুলভাল বই কিভাবে বিপদ ডেকে আনে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিক্ষা দেয়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে একটা স্টল থেকে আমি একটা বই কিনেছিলাম।ওই বইটা তেমন পড়া হয়নি।তবে ওই বই থেকে একটা প্রশ্ন কমন পেয়েছিলাম। পরিক্ষা দেয়ার পর বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে জানলাম আমার উত্তর ভুল ছিলো!!!

আর কি! ১ মার্কসের সাথে .২৫ মার্কস কাটা যায়।আমি এই .২৫ মার্কসের জন্য ১১২ জনের পেছনে চলে যাই!!! স্টুডেন্ট নিয়েছিলো ২০০ আর আমার সিরিয়াল এসেছিলো ৩১২ নাম্বার। চান্স প্রাপ্ত শেষেরজনের থেকে আমার ওই .২৫ মার্কস এর ব্যবধান ছিলো!!!

তাই বলি যে বই যাই কিনেন বুঝে কিনবেন। শুধু কিনে মুখস্ত না করে যে প্রশ্নে সন্দেহ হবে সেই প্রশ্ন অন্য বই থেকে যাচাই করুন। আর না পেলে গুগল তো আছেই!

যা পড়বেন বিস্তারিত পড়বেন

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাই পড়বেন একেবারে মন দিয়ে বিস্তারিত পড়বেন। বুঝে না পড়ে মুখস্ত করলে পরিক্ষায় যেয়ে একবার ভুলে গেলে আর মনে পড়বেনা অথবা ওই প্রশ্ন নিয়ে মাথা ঘামাতে যেয়ে দেখবেন যে সময় নষ্ট হচ্ছে।

তাই যাই পড়বেন একেবারে বিস্তারিত পড়বেন। অর্থাৎ একটা প্রশ্নের সাথে রিলেটেড অন্যান্য তথ্যও আপনাকে পড়তে হবে।কারণ আপনি মুখস্ত করে গেলেন এক প্রশ্ন কিন্তু একই ধাচের অন্য একটা প্রশ্ন আসলো।

আপনি যেটা পড়ে গিয়েছেন সেটা মনে করে ওটা দাগ দিয়ে আসবেন! তারপর কি হবে তা আপনিও বুঝতে পারছেন।

পরিক্ষা দিতে হবে প্রচুর!!!

  • প্রচুর পরিক্ষা দিতে হবে।প্রচুর মানে প্রচুর। প্রতিদিন রুটিনে ৩০ মিনিটের একটা পরিক্ষার সময় রাখবেন। প্রতিদিন একটা করে মডেল টেস্ট দিবেন। সময় রাখবেন ৩০ মিনিট/৪০ মিনিট সর্বোচ্চ। পুরো সময় ধরে প্রশ্নের উত্তর করলে উত্তর করার গতি বাড়বেনা। এজন্য বাজারের ভালো ভালো কয়েকটা মডেল টেস্টের বই কিনে নিবেন।
  • সর্বোচ্চ ৪০ মিনিটে পরিক্ষা দেয়ার চেষ্টা করুন।
  • দ্রুত প্রশ্ন পড়ে দ্রুত উত্তর দিন।
  • অবশ্যই পাশে একটা ঘড়ি রেখে সময় অনুযায়ী পরিক্ষা দিবেন।
  • মডেল টেস্টের পাশেই বা প্রশ্নের পাশেই উত্তর দেয়া এমন বই কিনবেন না। আপনি ভাববেন যে এটা আপনার পড়ার গতি বাড়াবে। কিন্তু এই ধরনের বই আপনাকে বই এ দেয়া উত্তরের উপর একটা দুর্বলতা তৈরি করে দিবে। অর্থাৎ আপনি প্রশ্ন পড়ে নিজে নিজে উত্তর করে নিজেই কনফিউসড থাকবেন যে আসলেই কি উত্তর ঠিক হয়েছে! তখন আপনি পাশেই দেয়া উত্তরের দিকে তাকাবেন। এভাবে আত্মবিশ্বাস কমে যায়।
  •  উত্তর অবশ্যই খাতায় লিখবেন। বইয়ে উত্তরের জায়গায় দাগ দিবেন না।

এটার ফলে যে লাভ হবে

  • আপনি দ্রুত উত্তর করতে পারবেন।
  • পরিক্ষার প্রশ্নের প্যাটার্ন সম্পর্কে পরিষ্কার একটা ধারণা তৈরি হবে। এটা আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে সহযোগীতা করে।অনেক শিক্ষার্থী পরিক্ষার হলে প্রশ্ন হাতে পেয়ে ঘাবড়ে যায়। কিন্তু প্রচুর মডেল টেস্ট প্র‍্যাকটিস করলে তার কাছে খুব সহজ লাগতো।
  • বাসায় যত বেশি ভুল করবেন, আসল পরিক্ষায় যেয়ে ততই সঠিক উত্তর করার সক্ষমতা তৈরি হবে। আপনি বাসায় যেগুলো ভুল করবেন সেগুলো কিন্তু অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে পড়বেন। আর এভাবে ভুল উত্তর করার কারণে সঠিক উত্তরগুলো বেশি করে মনে থাকবে। কিন্তু পরিক্ষায় ভুল হলে রক্ষা নেই। তাই মডেল টেস্টই আপনাকে এই সমস্যা থেকে বের করে আনতে পারে।
  • যত বেশি মডেল টেস্ট দিবেন তত বেশি সঠিক উত্তর দেয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে।
  • পরিক্ষা নামক ভয় কেটে যাবে।প্রশ্ন হাতে পেয়ে কাঁপতে হবেনা।কারণ আপনি এর আগেও এমন প্রশ্নের উত্তর বহুবার করে এসেছেন(যদি মডেল টেস্ট প্র‍্যাকটিস করেন)।

শেষ কথা

সবশেষে একটাই কথা, আপনি যখন বিশবিদ্যালয়ে পরিক্ষা দিতে যাবেন তখন এইচএসসিতে যা পড়ে এসেছেন ওখান থেকেই প্রশ্ন করা হবে।
তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা সম্পূর্ণ আলাদা নয়।
তাই গাইড গাইড করে নিজের মাথা নিজে নষ্ট করবেন না।
স্পেসিফিক বিস্তারিত লেখা এমন কয়েকটা ভালো বই কিনুন আর কয়েকটা মডেল টেস্টের বই কিনুন।

প্রতিদিন রুটিন অনুযায়ী পড়া শেষে একটা ৩০/৪০ মিনিটের পরিক্ষা দিন সম্পূর্ণ মার্কস এর।
তারপর নিজের সাহসের পরিবর্তন লক্ষ্য করুন।
এটা কতবড় ঔষধ সেটা আপনি নিজেই বুঝে যাবেন ধীরে ধীরে।

ধন্যবাদ।

১ thought on “কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিক্ষার প্রস্তুতি নিবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *