ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং করে যেভাবে অনলাইনে আয় করা যায় (পর্ব-১)

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার অনলাইন ব্যবসা ক্যারিয়ার ব্যবসা
শেয়ার করুন

ফ্রিল্যান্সিং কি?

ফ্রিল্যান্সিং অর্থ স্বাধীন বা মুক্তপেশা। অন্যভাবে যদি বলি, নির্দিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে স্বাধীন বা মুক্তভাবে কাজ করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলে। ফলে ফ্রিল্যান্সাররা ঘরে বসেই কাজ করে উপার্জন করতে পারেন। বলা হয়ে থাকে এই পেশার মাধ্যমে অনেকে প্রচলিত চাকরি থেকে বেশি আয় করে থাকেন। তবে তা আপেক্ষিক।

ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে একেবারে মুক্তপেশা ভাবলেও চলবেনা। কারণ আপনার ক্লায়েন্টের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে হয় এই পেশায়। ভালো রিভিউ অর্জন করতে হয়, ভালো পারফর্মেন্স দেখাতে হয়, ক্লায়েন্টের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হয়। এক ধরনের চাকরির মতোই।

তবে এই পেশাকে আমি পছন্দের শীর্ষে রাখবো তার প্রধান কারণ ঘরে বসে আয় করা যায়। এটাই আমার কাছে ভালো লাগে। আপনি লেখাটি পড়তে এসেছেন মানে এই পেশার প্রতি আপনারও আগ্রহ আছে। তবে অনেকে চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত ইনকামের উদ্দেশ্যেও ফ্রিল্যান্সিং করে থাকেন।

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং আয়

অনলাইন আয়

বর্তমান যুগ অনলাইনের যুগ। আর এর সাথে বাড়ছে ফ্রিল্যান্সিং এর জনপ্রিয়তা। যে যত বেশি আইটি সম্পর্কীত কাজে পারদর্শী তার ততই সুযোগের সম্ভাবনা রয়েছে। আজকে আমি যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করবো তা হলো ঘরে বসে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা যায় বা অনলাইনে ইনকাম করা যায়। আপনি চাইলে বিনা পুঁজিতে অনলাইনে কাজ করে অথবা ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারেন।

অনেকেই গ্রাফিকস ডিজাইন,ভিডিও এডিটিং,ওয়েব ডিজাইনিং ইত্যাদি কাজ পারেন না। তারা চান আরেকটু সহজ উপায়ে কিভাবে ইনকাম করা যায়। আমরা আজকে সেসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করতে যাচ্ছি। ধৈর্য নিয়ে পুরো লেখাটা পড়ুন। অন্যথায় যা জানতে এসেছিলেন সেটা পরিষ্কার হবেনা।

যে উপায়ে অনলাইন এ ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন

অনলাইন ইনকাম

নিমোক্ত উপায়ে আপনি অনলাইনে কাজ করে ইনকাম করতে পারবেন,

  • এফিলিয়েট মার্কেটিং
  • সিপিএ মার্কেটিং
  • ফেসবুক মার্কেটিং
  • বুস্টিং
  • এডসেন্স
  • ইমেইল মার্কেটিং
  • কনটেন্ট রাইটিং
  • ড্রপশিপিং
  • এনিমেশন ভিডিও মেকিং
  • ডিজিটাল মার্কেটিং

আরো অনেক অনেক উপায় আছে অনলাইনে আয় করার জন্য।তবে আমি আপাতত এই ১০ টি অনলাইন কাজ করে আয় করার বিষয়টি নিয়েই কথা বলবো।
তবে দুই পর্বে।

আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে পরবর্তীতে প্রতিটা পয়েন্টের সাথে ভিডিও যুক্ত করে দেয়ার চেষ্টা করবো যাতে বোঝার ব্যাপারে কোনো কমতি না থাকে। তাহলে চলুন উপর্যুক্ত কাজগুলো নিয়ে বিস্তারিত দেখে ফেলি,

এফিলিয়েট মার্কেটিং

ফ্রিল্যান্সার

প্রথমেই আলোচনা করবো এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে। ফ্রিল্যান্সিং এ এটা অনেক পপুলার। এফিলিয়েট মার্কেটিং টা মূলত অন্যের পণ্য বিক্রী করে কমিশন নেয়া।
মনে করুন অনলাইনে আপনি একটা শপের প্রোডাক্ট বিক্রী করবেন। ওদের কাছে আবেদন করার পর ওরা পারমিশন দিলে আপনি সেটা বিক্রী করিয়ে দিয়ে একটা কমিশন পেতে পারেন।

উদাহরণস্বরূপ, আমাজন শপে ১০ হাজার টাকার একটা প্রোডাক্ট বিক্রী করা হচ্ছে। এখন আপনি দেখলেন ওটা আপনার মাধ্যমে বিক্রী হলে আপনি ১০% কমিশন পাবেন প্রতি সেলে। অর্থাৎ ওই প্রোডাক্টের ১ ইউনিট বিক্রী করে দিলে পাবেন ১ হাজার টাকা।

আর ১০ ইউনিট বিক্রী করে দিলে পাবেন ১০ হাজার টাকা কমিশন। এটাই এফিলিয়েট মার্কেটিং। এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করবেন সে সম্পর্কীত লেখা আসবে। সহজ ভাষায় ১ ইউনিট মানে ১ টা প্রোডাক্ট।

আপনি সরাসরি নিজের সাইটের মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে পারেন অথবা ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অন্যের কাজ করে দিতে পারেন।

সিপিএ মার্কেটিং

ফ্রিল্যান্সিং করে আয়

এটা ফ্রিল্যান্সিং এ আরেকটি পপুলার কাজ। অনেকেই সিপিএ মার্কেটিং আর এফিলিয়েট মার্কেটিং এই দুটোকে গুলিয়ে ফেলেন। সিপিএ মার্কেটিং টা এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মতো হলেও এখানে কোনো প্রোডাক্ট জড়িত থাকেনা। এখানে একশন পূরণের মাধ্যমে আপনি কমিশন পাবেন।

সিপিএ মার্কেটিং এ অনেক ধরনের টাস্ক বা কাজ থাকে। প্রতিটা কাজ পূরণ করলেই কমিশন। সিপিএ মার্কেটিং এ অনেক ধরনের টাস্ক থাকে। যেমন, ইমেইল কালেকশন,ডেটিং,গিফট কার্ড রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি।

উদাহরণস্বরূপ, একটা কোম্পানি অফার লিংক আপনাকে দেয়া হলো। আপনাকে বলা হলো এই লিংক শেয়ার করার পর এই লিংকের মাধ্যমে কেউ যদি ইমেইল সাবমিট (এটাই টাস্ক) করে তাহলে আপনাকে ১/২/৩ পার্সেন্ট কমিশন দেয়া হবে।

মনে করুন প্রতি টাস্ক কমপ্লিট করলে ৫০ সেন্ট করে দিবে। ওখানে কোন দেশের মানুষ ইমেইল সাবমিট করবে তাও বলা থাকে। মনে করুন আমেরিকার ইমেইল কালেক্ট করবেন। এখন আপনি বিভিন্ন জায়গায় এই লিংক শেয়ার করতে থাকলেন। আমেরিকার প্রায় ২০০ জন মানুষ ওই লিংকে ক্লিক করে ইমেইল সাবমিট করলো।তাহলে আপনার একাউন্টে ১০০ ডলার জমা হয়ে যাবে!

প্রথম দিকে সিপিএ মার্কেটিং এর জন্য তেমন খরচাপাতি লাগবেনা। ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করেই এই কাজটি করতে পারেন। আপনি সরাসরি নিজের সাইটের মাধ্যমে সিপিএ মার্কেটিং করে আয় করতে পারেন অথবা ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অন্যের কাজ করে দিতে পারেন।

সিপিএ এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং এর পার্থক্য

সিপিএ মার্কেটিং মূলত কোনো টাস্ক/কাজ পূরণের মাধ্যমে কমিশন অর্জনকে বোঝায়।অর্থাৎ এই কাজে কোনো ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট থাকবেনা। যেমন, গিফট কার্ড,ইমেইল সাবমিট ইত্যাদি। আয় শুধুমাত্র অনলাইন টাস্ক কমপ্লিটের উপর নির্ভর করে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট বিক্রীর উপর কমিশন অর্জনকে বোঝায়। ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট বলতে যা ছোঁয়া যায়,ধরা যায় তাকে বোঝানো হয়েছে।যেমন টিভি,ফ্রি ইত্যাদি।

ফেসবুক মার্কেটিং

ফেসবুক মার্কেটিং হলো অন্যতম বড় ব্যবসায়ীক প্লাটফর্ম যেখান থেকে আপনি ফ্রিতেও অনেক অনেক মানুষের কাছে আপনার পণ্য/সার্ভিস সম্পর্কীত বিজ্ঞাপন পৌছে দিতে পারবেন।

আমি চা পাতার ব্যবসা করি। এখন আমি এটা অনলাইনে কিভাবে সেল করবো সেই চিন্তা মাথায় আসলো। আপনি প্রথমে আমার ফেসবুক পেইজটিকে সাজালাম।
কিভাবে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করবেন তা জানতে এই লেখাটা পড়ুন। এই লেখায় সবকিছু সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

কম্পিউটার দিয়ে আয়

তারপর বিভিন্ন গ্রুপে জানানো শুরু করলাম। এটাকে ম্যানুয়াল ফেসবুক মার্কেটিং বলতে পারেন। বুস্ট না। আমার ব্যবসা এভাবেই চলছে। আমার চা পাতার ফেসবুক পেইজটি দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন অথবা গুগল সাইটেও ভিজিট করতে পারেন।

আপনি চাইলে যেকোনো ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট বা আপনি যে কাজে পারদর্শী সে কাজ নিয়ে ফেসবুকে পেইজ খুলে বিজনেস করতে পারেন। আর বিনা বুস্টিং বা বিনা খরচে এডভার্টাইজিং করতে বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট দিতে পারেন আপনার কাজ সম্পর্কে। সেল হবে।

ফ্রিল্যান্সিং করে এই স্কিলকে কাজে লাগাতে পারবেন।

বুস্টিং

বুস্টিং ব্যবসা করতে পারেন। যদি আপনার মাস্টারকার্ড বা ইন্টারন্যাশনাল লেনদেনের জন্য কোনো কার্ড থাকে বা একাউন্ট থাকে তাহলে আপনি এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে শুধু কার্ড দিয়ে বুস্ট করে দিলে হবেনা।

আগে বুস্টিং নিয়ে আপনাকে ধারণা নিতে হবে। ফেসবুক বুস্টিং,গুগল বুস্টিং,ইন্সটাগ্রাম বুস্টিং,লিংকডইন বুস্টিং অনেক ধরনের বুস্টিং রয়েছে। আপনার এগুলোতে আগে পারদর্শী হতে হবে।

এডসেন্স

আয়

আপনি চাইলে ঘরে বসে এডসেন্স দিয়ে আয় করতে পারেন। এডসেন্স দিয়ে আয় করতে হলে যে যে মাধ্যমে কাজ করে আয় করতে পারেন সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল প্রচলিত মাধ্যম হলো ইউটিউব ভিডিও মেকিং ও ওয়েবসাইট। আপনি এই দুটোতে কাজ করে ইনকাম করতে পারেন।

তবে এডসেন্স অনেক কঠিন করে ফেলেছে নিয়ম দিতে দিতে। তার প্রধান কারণ অনেকেই এগুলোতে আয় করার লোভে যা ইচ্ছা তা শুরু করেছিলো। যার কারণে এডসেন্স এখন একটু বেশি কঠোর হয়েছে।

আপাতত এই ৫ টি কাজ নিয়ে আজকে আলোচনা করলাম। পরবর্তী লেখায় এর পরের ৫ টি কাজ নিয়ে বলবো। তবে একটা কথা আপনাদেরকে বলে রাখা ভালো। তা হলো এই প্রতিটা জায়গাতেই লাখ টাকা ইনকামের সুযোগ যেমন আছে, আবার একেবারে শূন্য হাতে ফেরার সম্ভাবনাও আছে। যিনি লেগে থাকতে পারেন তিনি আয় করতে পারেন।

আমাদের সমস্যা হলো একটা কাজ শুরু করার একদিনের মধ্যেই লাখ টাকা ইনকাম করে ফেলতে চাই। এটা সম্ভব না। তাই ধৈর্য ধরে লেগে থাকা লাগবে। এইসব কাজে অভিজ্ঞতা হয়ে গেলে আপনার আর অসুবিধা হবেনা।

সাবধানঃ অনেকে ফ্রি ইনকাম ওয়েবসাইট এর লোভ দেখাতে পারে।ওগুলো থেকে একটু সাবধান থাকবেন।ওগুলো বেশিরভাগই স্ক্যাম বা ফেইক প্রমাণিত হয়।

পরবর্তী লেখা পড়ার আমন্ত্রন রইলো।

আমাদের আরো ব্লগ পড়ুনঃ