অনলাইনে আয়

ফ্রিল্যান্সিং করে যেভাবে অনলাইনে আয় করা যায় (পর্ব-২)

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার অনলাইন ব্যবসা
শেয়ার করুন

যেভাবে অনলাইনে আয় করা যায়

ফ্রিল্যান্সিং করে কিভাবে অনলাইনে আয় করবেন সেটার প্রথম পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম পাঁচটি বিষয় নিয়ে। এখন আলোচনা করবো বাকিগুলো নিয়ে। আগের পাঁচটি বিষয় ছিলো,

  • এফিলিয়েট মার্কেটিং
  • সিপিএ মার্কেটিং
  • ফেসবুক মার্কেটিং
  • বুস্টিং
  • এডসেন্স

অনলাইন আয়

এ পর্বে আমরা অনলাইনে আয় করার বাকি পাঁচটি কাজ নিয়ে আলোচনা করবো। এগুলো হলো,

  • ইমেইল মার্কেটিং
  • কন্টেন্ট রাইটিং
  • ড্রপশিপিং
  • এনিমেশন ভিডিও মেকিং
  • ডিজিটাল মার্কেটিং

নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো,

ইমেইল মার্কেটিং

অনলাইন ইনকাম

অনলাইনে আয় করার অন্য আরেকটি উপায় হলো ইমেইল মার্কেটিং। অন্যান্য মার্কেটিং এর চেয়েও সবচেয়ে বেশি কনভার্সন রেট থাকে ইমেইল মার্কেটিং এ। ওখান থেকে সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক জেনারেট করা যায়।

ট্রাফিক মানে ভিজিটর নিয়ে আসা। ইমেইল মার্কেটিং শেখা মানে মার্কেটিং এর অন্যতম শক্তিশালী সাইড আপনার দখলে থাকবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা বা কোনো ভিডিও আনলে আমরা এখানে যুক্ত করে দিবো। আপনার মনে আসতে পারে কিভাবে ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয় করতে পারেন?

ধরুন আপনি ইমেইল মার্কেটিং এ দক্ষ। এখন অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে একজন আপনাকে বললো তার একটা লিংক বা প্রোডাক্টের প্রশংসা করে মানুষকে মেইল পাঠাতে হবে। আপনি কাজ নিলেন এবং তার টার্গেট অনুযায়ী মানুষকে পাঠালেন। সে আপনার কাজে সন্তুষ্ট হলো। তারপর আপনাকে পেমেন্ট দিলো।

মার্কেটিং এর এই কাজটি করে আপনি সহজেই ফ্রিল্যান্সিং অথবা অনলাইনে আয় করতে পারেন। আবার অনেকে ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করেও অনলাইনে আয় করেন। এটা অনেক বেশি ইফেক্টিভ।

কন্টেন্ট রাইটিং

আয়

আপনার লেখালেখিতে যদি দক্ষতা থাকে তাহলে ফ্রিল্যান্সিং এ এই কাজটি বেছে নিতে পারেন। বাংলাদেশে অনলাইনে কাউকে হায়ার করতে আমি শুনিনি। তবে দেশের বাইরে এর ডিমান্ড প্রচুর।

আপনার যদি ইংলিশে দক্ষতা থাকে তাহলে এই কাজ করতে পারেন। তবে সাবধান! ইংলিশে দক্ষতা না থাকলে এই কাজে হাত দিবেন না। তাহলে নিজের ক্যারিয়ার তো ডুবাবেনই, সাথে অন্যান্য ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও মার্কেটপ্লেসগুলো কঠিন হয়ে যাবে।

অনলাইনে আয় করতে চাইলে আপনার ইংলিশের দক্ষতাও বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলায় কন্টেন্ট এর চাহিদা অবশ্য এখন বাড়ছে। সেক্ষেত্রে আপনার বাংলায় লেখালেখির অভ্যাস থাকলেও অনলাইনে আয় করার পথ খুঁজে পাবেন।

ড্রপশিপিং

ঘরে বসে আয়

এমন অনেকেই আছেন যারা এই প্রথমবারের মতো এটার নাম শুনেছেন। যারা শুনেননি বা জানেন না তাদের জন্য খুব সহজভাবে বলে দিচ্ছি। ধরুন আপনার একটা ফেসবুক পেইজ বা ওয়েবসাইট আছে যেখানে আপনি বিভিন্নজনকে এমাজন,আলি এক্সপ্রেসের প্রোডাক্ট অফার করেন।

কারণ যে কেউ চাইলেই অনলাইনে এসব প্লাটফর্ম থেকে প্রোডাক্ট কিনতে পারবেনা। আপনি পারেন বা আপনার মাস্টারকার্ড রয়েছে। আপনি মানুষ থেকে অর্ডার নিবেন আর ওদের সাইটে অর্ডার করে দিবেন। ওরা প্রোডাক্ট পাঠিয়ে দিবে। অবশ্যই লাভ রেখে অর্ডার নিবেন কাস্টমার থেকে।

তবে যতটা সহজভাবে ব্যাপারটা বললাম কাজ কিন্তু এতো সহজ না। ড্রপশিপিং এর আসল ব্যাপারটা হলো মানুষ জানবেনা আপনি কোত্থেকে প্রোডাক্ট দিচ্ছেন। আপনি কাউকে না জানালেই হবে। অনেক অনেক ড্রপশিপিং এর ওয়েবসাইট আছে যা আমরা জানিনা। সবগুলো ওয়েবসাইটই ই-কমার্সের।

এই সাইটগুলো ই-কমার্সের নামে ড্রপশিপিং-এর ব্যবসা করছে। আপনিও চাইলে এভাবে অনলাইনে ইনকাম করতে পারে অথবা ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে আপনার ক্লায়েন্টের কাজ করে দিয়ে আয় করতে পারেন।

এনিমেশন ভিডিও তৈরি

ঘরে বসে অনলাইনে আয়

এনিমেশন ভিডিও তৈরি করেও আয় করতে পারেন। বিভিন্ন পেইড টুলস রয়েছে যেখানে শুধুমাত্র ড্রাগ এন্ড ড্রপের মাধ্যমেই এনিমেশন ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। ড্রাগ এন্ড ড্রপ মানে কোনো অতিরিক্ত কাজ করতে হয়না। শুধুমাত্র ক্যারেক্টার বা সিনগুলোকে টেনে এনে জায়গামতো বসিয়ে দেয়া। এটাতে অনেক আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে ভিডিও কন্টেন্ট এর বিপুল চাহিদা রয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে ভবিষ্যৎ এ এর চাহিদা আরো বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধি পাবেন। আর ভিডিও এর মধ্যে এনিমেশনের চাহিদা অনেক বেশি। তাই বুঝতেই পারছেন এটার মাধ্যমে আপনি কি পরিমাণ আয় করতে পারেন। অনলাইনে আয় করতে চাইলে এনিমেশন ভিডিও তৈরির অভিজ্ঞতা খুব বেশি কাজে দিবে।

এ ছাড়াও যারা ভিডিও এডিটিং এর কাজ পারেন তাদের জন্যও অনেক বড় সুযোগ। আপনারা চাইলেই অনেক ভালো ভালো কাজ পেতে পারেন বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে। ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার অনেক মার্কেটপ্লেস আছে। আবার এসব বিষয়ে দক্ষ হতে পারলে নিজেই ইউটিউবে ভিডিও দিয়ে আয় করতে পারেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং

ঘরে বসে ইনকাম

উপর্যুক্ত প্রতিটা কাজের সম্মিলিত রুপ বলতে পারেন ‘ডিজিটাল মার্কেটিং’ কে। আপনার যদি উপর্যুক্ত কাজগুলোতে দক্ষতা থাকে তাহলে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করতে পারেন। ডিজিটাল মার্কেটিং টা বর্তমানে অনেক চাহিদাসম্পূর্ন কাজ। এটি শিখতে পারলে আপনি অনেক কাজ পাবেন।

আমি এতক্ষন যে বকবক করলাম তার সারমর্ম হচ্ছে ‘কাজ শিখে মার্কেটে প্রবেশ করুন’। কাজ না শিখে মার্কেটে প্রবেশ করতে যাবেন না। কারণ এতে আপনার নিজের তো ক্ষতি হবেই, তারও সাথে আরো প্রচুর ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষতি হতে পারে। আপনি বুঝে, না বুঝে ওখানের পরিবেশ নষ্ট করতে পারেন।

সময় নিয়ে ইউটিউব ঘাটুন, বিভিন্ন ব্লগ ঘাটুন, কোর্স করুন। তারপর মার্কেটে প্রবেশ করুন। কারো দেখাদেখি লাফিয়ে লাফিয়ে একদিনেই নিজেকে দক্ষ মনে করে কাজে হাত দিবেন না। আমাদের সাইটে ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে বিস্তারিত লেখা আসবে সামনে।

আমাদের আরো লেখা পড়ুনঃ

ধন্যবাদ