ধর্ষনের মূল কারণ ও আমাদের ভুল (পর্ব-২)

ধর্ষণের মূল কারণ ও আমাদের ভুল (পর্ব-২)

মতামত

প্রথম পর্ব পড়তে ধর্ষণ এর মূল কারণ ও আমাদের ভুল (পর্ব-১) এখানে দেখুন।

হঠাৎ করে ধর্ষণের এতো খবর কেন?

ধর্ষণ আগেও যেমন ছিলো,এখনো তেমনি আছে।
এর প্রধান কারণ আইন থাকলেও আইনের বাস্তবায়ন হচ্ছেনা অথবা দেরি হচ্ছে।

একটা ধর্ষণের ঘটনা যখন প্রকাশিত হয় সবাই এটা নিয়ে মাতামাতি করে।

ওই ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধী প্রমাণ হতে হতে এতো এতো সময়ক্ষেপণ হয় যে তার মাঝেই শত শত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে যায়।
মানুষ একসময় ভুলে যায়।
যারা এসব অপরাধে জড়িত থাকে তারা সাহস পেয়ে যায়।
সমস্যা এখানেই।

আচ্ছা টপিকে আসি।
দেশে হুট করেই ধর্ষণ বেড়ে যায়নি।
আমাদের চোখের সামনে এসব প্রকাশিত হচ্ছে এখন কারণ এটাই এখন ‘টক অব দ্যা টাউন’।

একটা উদাহরণ দেই।
বেশিদিন হয়নি,সড়ক আন্দোলনের কথা মনে আছে সবার?
তখন দুইটা ছেলেমেয়ের উপর বাস তুলে দিয়েছিলো একটা গাড়িচালক।
সেই দুই শিক্ষার্থী স্পট ডেড।
তারপর বিভিন্ন ঘটনার কারণে এই ব্যাপারটা একটা আন্দোলনে রুপ নেয়।
পুরো দেশ গর্জে উঠে প্রতিবাদে।

তখন খেয়াল করে দেখেছেন যে একটা রিকশা দূর্ঘটনা ঘটলেও পত্রিকায় নিউজ হয়ে যেত। বিশাল হেডলাইন দিয়ে প্রকাশ করা হতো। আমরা সেগুলো শেয়ারও করতাম।
কিন্তু এর আগেও অনেক অনেক দূর্ঘটনার খবর কিন্তু আমাদের চোখে পড়তোনা।
পত্রিকার এক কোণে পড়ে থাকতো এসব খবর।
আমরা নিজেও সেসব দেখতাম না।
কিন্তু ওই সময়ের ‘টক অব দ্যা টাউন’ ছিলো সড়ক দূর্ঘটনা।
পত্রিকায় প্রচুর পরিমাণে ছাপা হতো দূর্ঘটনার খবর।

এরপর পরিস্থিতি যখন ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসে তখন আবার সব নিশ্চুপ হয়ে যায়।
আবারো সড়ক দূর্ঘটনার খবরগুলোর জায়গা হয় পত্রিকার এক কোণে।
আমরাও আর এসব শেয়ার করিনা।
তখনকার আন্দোলনে মনে হয়েছিলো দেশ এবার সঠিক আসবে,সড়ক এবার সঠিক পথে আসবে।
আসলেই কি সঠিক পথে এসেছে বাংলাদেশের সড়ক?
উত্তরটা খুব সহজ।
আগে যেমন ছিলো, এখনো সব তেমনি রয়েছে।

ধর্ষণের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই হবে।
কিছুদিন মাতামাতি,তারপর সব নিশ্চুপ হয়ে যাবে।

তারমানে কি পত্রিকায় এসব শেয়ার করা উচিত হচ্ছেনা?
আপনারা এসব শেয়ার দিচ্ছেন এসব উচিত হচ্ছেনা?
আমার কথাগুলো কোনটা উচিত আর কোনটা অনুচিত সেসব বলতে লেখা হয়নি।
সারা বছর না হোক,অন্তত টক অব দ্যা টাউনের কারণে তো কয়েকটা আসামী ধরা পড়ছে!

কিন্তু বিচার হচ্ছে কোথায়?
আমরা চুপ হয়ে যাচ্ছি কেন?
অপরাধ ঘটার কিছুদিন পর আমরা তো ধরা পড়া সম্ভাব্য অপরাধীদের ব্যাপারে আর জানিওনা।
একসময় পত্রিকায়ও ওদের অবস্থান প্রকাশ করা হয়না খুব একটা।
আমরা খোঁজও নেইনা।
বিচার কয়জন পাচ্ছেন?
ধর্ষণের কতটা সংবাদও বা প্রকাশ পায়?

সেদিন এমসি কলেজে ধর্ষণ হবার পর থেকেই ‘ধর্ষণ শব্দটা টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।
এই সংবাদ সামনে এসেছে স্বামী এবং স্ত্রীর সাথে এই ঘটনা ঘটে যাবার কারণে।
এরপর পত্রিকায় দেখানো শুরু করলো এই বছর বাংলাদেশে প্রায় ১১ হাজারের মতো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
ব্যাপারটা ‘টক অব দ্যা টাউন’ হবার আগে কোনো সুশীল সমাজ এটা নিয়ে টু শব্দটিও করলোনা কেন!

এখানেই আপনি কিন্তু আমার বলা ‘তথ্য ঘাটতি’র বিষয়টি পেয়ে যাচ্ছেন।
ওরা এসব প্রকাশের আগে আপনি জানতেনওনা যে দেশে এতো হাজার হাজার ধর্ষণের ঘটনা ঘটে গিয়েছে।
‘টক অব দ্যা টাউন’ না হলে অপরাধগুলো ঠিকই নীরবে ঘটেই যাচ্ছে।

আচ্ছা এখন যে কথায় ছিলাম,এমসি কলেজের ঘটনায় স্বামী স্ত্রী না হয়ে ওখানে যদি একটা প্রেমিক যুগল থাকতো তাহলে কি এটা প্রকাশিত হতো?
না।
কারণ সমাজ প্রেম ব্যাপারটা খুব খারাপ ভাবে।
ধর্মের দৃষ্টিকোণ বা সামাজিকতা বা আমাদের সংস্কৃতির দৃষ্টিকোণ থেকে ‘প্রেম’ করাকে খারাপভাবে দেখা হয়।
যার ফলে হয়তো অনেক অনেক ধর্ষণের ঘটনা আমাদের আড়ালেই থেকে যায়।
হয়তো আপনার মেয়ে কোথাও না কোথাও ধর্ষণের শিকার হয়েছে আপনি জানেনওনা!
হতে পারে আপনার মেয়ে রেগুলার ধর্ষণের শিকার হচ্ছে কিন্তু আপনি জানেনওনা!

কারণ আপনার কাছে প্রেম গ্রহণযোগ্য নয়।
এটা আপনার চোখে পাপ।
তাই মেয়ে ভয়ে আপনাকে জানাচ্ছেনা।
মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে এসে আপনাকে কেঁদে কেঁদে এটা প্রকাশ করলে আপনি হয়তো বেত দিয়ে আগে মেয়েকে মারবেন এ কারণে যে “তুমি প্রেম কেন করেছো?”।

আমাদের এখানেই সমস্যা হচ্ছে।

প্রেম ধর্মীয় দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ হলেও আমার মনে হয় এটাকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মেনে নিয়ে সুন্দর একটা বিয়ের আয়োজনের মাধ্যমে সুন্দর পরিণতিও দেয়া যায়।
আপনি আপনার সন্তানের সাথে বন্ধু সুলভ না হলে তারা লুকিয়ে এসব করতে যাবেনা তার গ্যারান্টি কি?

ছেলে মেয়ের মধ্যকার আকর্ষণটা তো উপরওয়ালারই তৈরি।
তারা এই আকর্ষণের ফলে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু আপনার ভয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করে।
আপনি যদি এটা স্বাভাবিকভাবে নিতেন তাহলে অবশ্যই তারা এটা প্রকাশ করতো।
এটা প্রকাশের পর আপনি যদি খোঁজ নিয়ে দেখেন যে ছেলে/মেয়েটা ভালো তাহলে দুই পরিবার বিয়ের কথা বলুন।
সহজ সমাধান না?

বয়স কম?
বিয়ের বয়স হয়নি?
তাহলেও বকা দিবেন না,মারবেন না।
তাকে বন্ধুর মতো বুঝাতে পারেন।
তাও সে না মানলে তাদের বিয়ের বয়স হতে দিন।

মেয়েকে তো কারো না কারো ঘরে দিতেই হবে।
প্রেম করতে বাধা দিতে হবে এই চিন্তা না করে মেয়ে/ছেলে যাকে পছন্দ করেছে সে কেমন তা খোঁজ নিন।
খারাপ হলে আপনার সন্তানকে খারাপের প্রমাণ দেখান।
ব্যাপারটা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে।

আমি হয়তো বেশি সহজে কথাগুলো বলে ফেললাম।ব্যাপারটা এতোটা সহজ নাও হতে পারে।
ব্যাপারটা তখনই সহজ হবে যখন আপনি সন্তানের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করবেন।
আপনিও জানেন,আমিও জানি পৃথিবীতে যদি কোনো মানুষকে সব শেয়ার করা যায় তা হলো বন্ধু।
এই কথার পর আশা করি এই ব্যাপারটা নিয়ে আপনার নেগেটিভ চিন্তা থাকার কথা না।

 

ধর্ষকের বিচার ছাড়াই ফাঁসি চাই ধর্ষণ এর ঘটনায়/রাস্তাঘাটে পিটিয়ে মেরে ফেলুন ধর্ষককে, এই কথাগুলো ধর্ষকের চেয়েও ভালো মানুষের জন্য বেশি ভয়ানক হয়ে যাচ্ছেনা তো?

কথাটা বুঝতে কষ্ট হতে পারে।
আমি চেষ্টা করবো সহজভাবে বুঝাতে।

পৃথিবীর সব অপরাধীর বিচার পাবার অধিকার আছে।
কথাটা শুনেই আপনার রাগ হতে পারে।
এটা একসময় আমারও মনে হতো।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বুঝতে পারলাম এটা কতটা ভয়ানক ব্যাপার।
বিচার ছাড়া যেকোনো মানুষকে ফাঁসি দিতে গেলে দেখা যাবে অনেক অনেক মানুষই আসলে নিরপরাধ!
অনেক নাহলেও একজন নিরপরাধ মানুষ যদি বিনা বিচারে মারা যায় তাহলে এর দায় ভার কে নিবে!
নিজেকেও তো মাফ করতে পারবেন না।

এসব ভুলভাল মামলায় আপনার ভাইও ফাঁসতে পারে।
সব মানুষই ভালো নয়।
অনেকে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্যও কিন্তু অনেকের উপর মিথ্যা মামলা দেয়।
সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রয়োজন।
ধর্ষণ মামলার বিচারগুলো খুব দ্রুত হোক।
খুব দ্রুত।
দ্রুত যাতে কে অপরাধী,আসল ঘটনা কি সব বের হয়ে আসে এবং অপরাধীকে খুব দ্রুত ফাঁসিতে ঝুলানো হোক।

কথাটা এরকম হলে ন্যায়বিচার হবে।
যেভাবে সরাসরি “ফাঁসি দিয়ে দাও” বলে একটা কথা ছড়ানো হচ্ছে সেটা খুব ভয়ানক।
এর মাধ্যমে নিরপরাধ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
১০ টা খারাপ মানুষের মৃত্যু হওয়ার চাইতে ১ জন ভালো মানুষের এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকা জরুরি
পৃথিবীতে ভালো মানুষের যে খুব অভাব!

ধর্ষককে রাস্তাঘাটে পিটিয়ে মেরে ফেলুন ইত্যাদি কথা কতটুকু ভয়ানক হতে পারে আপনার কোনো ধারণা আছে?
ধরুন আপনার আদরের ভাইটা অনেক ভালো।
সে একদিন পাবলিক বাসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
সামনে একটা মেয়েও দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
বাসের ব্রেক বা ঝাকুনির ফলে আপনার ভাইয়ের হাত মেয়েটার শরীরে লেগে গেলো।
সাথে সাথে মেয়েটা চিৎকার দিয়ে উঠবে!

আপনার আদরের সহজ সরল ভাইটা কিছু বুঝে উঠার আগেই গণপিটুনির শিকার হতে পারে।
এর মাধ্যমে তার মৃত্যুও হতে পারে!
সব ছেলেই ইচ্ছে করে এভাবে গায়ে হাত দেয়না এটাও আপনাদের মাথায় রাখা উচিত।
ফেসবুকে এসব কথাবার্তা দেখে স্বাভাবিকভাবে একটা মেয়ে সবসময় তঠস্ত থাকবে এই বুঝি কেউ তার গায়ে হাত দিবে।
তাই সামান্য ভুল বুঝাবুঝিতেও সে ওই ভয় থেকে চিৎকার করে উঠতে পারে।

এটা ভয়ানক না?
যেখানেই এমন ঘটনা ঘটবে আগে বোঝার চেষ্টা করুন আসলে মানুষটা ইচ্ছা করে নাকি অনিচ্ছায় হাত দিয়েছে।
সাথে সাথে রিয়েক্ট করবেন না।
একবার হাত পড়লে তার দিকে তাকান।
চোখ দেখলেই মোটামুটি ধারণা পেয়ে যাবেন সে ইচ্ছাকৃত করেছে নাকি অনিচ্ছাকৃত।
যদি বুঝে থাকেন বা নাও বুঝে থাকেন তাহলে আপনার জায়গা পরিবর্তন করুন।

এরপরও ওই মানুষটা যদি আপনাকে বিরক্ত করতে আসে তাহলে রিয়েক্ট করতে পারেন নির্দ্বিধায়।
কিন্তু সাথে সাথে রিয়েক্ট করবেন না।
অবজারভেশন টা গুরুত্বপূর্ণ।
নিরপরাধ মানুষদের এসব দূর্ঘটনা থেকে বাঁচতে দিতেই এখানের কথাগুলো বলা।
সব পুরুষই যদি ধর্ষক হতো তাহলে আপনার বাবাও ধর্ষক,আপনার ভাইও ধর্ষক।

সবসময় মাথা ঠান্ডা রেখে একটু সময় নিয়ে অভজারভ করুন।দ
আর সোশাল মিডিয়ায় কোনো নিউজ দেখলেই মেরে ফেলুন,কেটে ফেলুন কথাগুলো লিখবেন না।
বুদ্ধিমান মানুষ যুক্তি দিয়ে কথা বলে।
মেরে কেটে ফেলার কথা বললেও সে সেটার যুক্তি তুলে ধরে।

ধর্ষন এর কেমন বিচার চাই আমরা?

ফাঁসি হোক।
প্রমাণিত ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড হোক
ধর্ষণের মামলা দ্রুত আমলে নিয়ে এর দ্রুত বিচার হোক।
মামলার রায় অনুযায়ী অভিযুক্ত ধর্ষক প্রমাণিত হলে রায় দ্রুত কার্যকর হোক।
এতো দ্রুত রায় কার্যকর হোক যেন অন্য আরেকটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটার সুযোগ না পায় অন্য কেউ।

সুন্দর, সুস্থ একটা পৃথিবীর প্রয়োজন আমাদের।
সত্যিকার অর্থেই আমরা ছেলে মেয়েরা একসাথে যখন কোথাও ঘুরতে বের হই একটা টেনশন কাজ করেই।
আমরা এসব থেকে মুক্ত হতে চাই।
চাই সবাই শান্তিতে বাঁচুক।
পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ অপরাধগুলোর মাঝে ধর্ষণ অন্যতম।
কেউ এতোটা ভয়ানক হবেন না।
অনুরোধ থাকলো।

কেউ এই অপরাধে জড়াবেন না।
মানুষ হিসেবে আপনার বিবেক আছে,বুদ্ধি আছে।
অমানুষ হবেন না।

আর এসিড সন্ত্রাসের কথা মনে আছে আপনাদের?
এখন কিন্তু এসিড সন্ত্রাসের ব্যাপারে আর শোনা যায়না।
আশা করি নির্মূল হয়ে গিয়েছে।
এসিড সন্ত্রাসের বিচার যদি ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার আইন থাকে তাহলে ধর্ষণের বিচার ৯০ দিনের মধ্যে কেন করা যাবেনা?

নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রতিবাদ করুন।
ফেসবুকে যেভাবে বিচার চাচ্ছেন সেভাবে চাইতে থাকুন ওটাতে অসুবিধা নাই।
কিন্তু একটা কথা কি…. প্রতিবাদের চাইতে বড় হাতিয়ার হলো প্রতিরোধ।
সঠিকভাবে,সঠিক সময়ে প্রতিরোধ করতে হবে।

শেষ কথা

আপনার মেয়ের মনকে শক্ত করে গড়ে তুলুন।
যেখানে প্রতিবাদ করতে হয় সেখানে প্রতিবাদ করতে শেখান।
আপনি যদি সবসময় বলেন,”তুমি মেয়ে,তুমি পারবেনা” তাহলে সে আসলেই পারবেনা।

হাতি এতোবড় একটা প্রাণি।
তাকে কিভাবে পোষ মানানো হয় জানেন?
বাচ্চা হাতিকে জন্মের পর থেকেই বড় গাছ বা এমন কিছুর সাথে বেঁধে রাখা হয় যাতে সে ওটা ভেঙ্গে ছুটে যেতে না পারে।
প্রথমদিকে সে অনেক চেষ্টা করে ছোটার।
পারেনা।
আবার চেষ্টা করে।
আবার ব্যর্থ হয়।
এটা করতে করতে একসময় সে আশা ছেড়ে দেয়।
সে ভেবেই নেয় তার শক্তি নেই।
সে পারবেনা।

এরপর সেই হাতি বিশাল বড় হবার পরেও যদি ছোট একটা দুর্বল খুটিতে বেঁধে রাখা হয় তাও সে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেনা।
সে ভাবে সেই খুঁটি ভাঙ্গার ক্ষমতা তার নেই।

আপনার মেয়ের ক্ষেত্রেও যদি এটা ঘটে তাহলে মনে করেন আপনার মেয়েও ওই খুঁটিতে বন্দি হাতির মতো।
হয়তো তার মেধা আছে বা ক্ষমতা আছে কিন্তু সে আটকে থাকে ‘তুমি পারবেনা’ কথাটার মাঝে।
এটা অবশ্য মেয়েদের ক্ষেত্রে না শুধু,ছেলেরাও এই সমস্যার মুখোমুখি হয় জীবনে।

খারাপ কিছুতে প্রতিবাদ করতে শেখান।
সেটা ভালো হবে।

আমি ছেলে হিসেবে হয়তো ছেলেদের একটা কথা বলতে পারি।
নিজে ঠিক থাকুন,বন্ধুদের মধ্যে এমন উগ্র আচরণের আভাস পেলে তাকে ভালো মতো বোঝান এবং বাধা দিন।
এর চেয়ে বড় সমাধান আর হতে পারেনা।
এভাবে একজন একজন করে হাজারো ধর্ষণের ঘটনা হয়তো ঘটবেনা।
নিজ ধর্মের দায়িত্ব পালন করাটা এই সমস্যার আরেকটা সমাধান।

যদি আপনার মধ্যে এরকম প্রবণতা আসে তাহলে দয়া করে ধর্মের দায়িত্বগুলো পালন করুন।
দেখবেন সব সুন্দর।খারাপ চিন্তা আসবেনা।
পরিবারকে বিয়ের কথাও বলতে পারেন লজ্জ্বা ভেঙ্গে।
পরিবারেরও উচিত এ ব্যাপারটাকে বোঝা।
এটা যদি পরিবার না বুঝে তাহলে ধর্ষণের অন্যতম বড় অংশীদার হতে পারে একটা ছেলের পরিবার।

কিন্তু ছেলে হিসেবে,একজন মানুষ হিসেবে এই অপরাধে জড়াবেন না।
এটা ভয়ানক একটা অপরাধ যে সেটা সবাই বুঝেন যেহেতু আপনি মানুষ।
সামান্য সময়ের এমন বাজে চিন্তা আপনাকে সারাজীবন অপরাধবোধে ভোগাবে।

এমনও হতে পারে একসময় আপনি মেয়ে সন্তানের জন্মদাতা হতে পারেন।
হতেও পারে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *