ফার্নিচার তৈরির ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন?

ফার্নিচার তৈরির ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন?

অনলাইন ব্যবসা ব্যবসা
Spread the love

ফার্নিচার তৈরির ব্যবসা কেন করবেন?

ফার্নিচার তৈরির ব্যবসা একটি লাভজনক ব্যবসা। মানুষের গৃহ সাজানোর জন্য ফার্নিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আর কথা যদি আসে শৌখিন মানুষের, তাহলে তো আর কথাই নেই! তাদের ফার্নিচারের প্রতি এক ধরনের দুর্বলতা কাজ করে।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষের রুচিবোধের পরিবর্তন হচ্ছে। সেই সাথে পরিবর্তন হচ্ছে ফার্নিচার ব্যবহারকারিদের রুচি। গৃহকে সাজানোর জন্য ফার্নিচার প্রয়োজন।

অতীত কিংবা বর্তমানে সবসময়ই ঘর সাজানোর জন্য কাঠের ফার্নিচারের চাহিদা ছিলো এবং

ফার্নিচার
নতুন কিছু করুন। ছবিঃআনস্প্লেশ

আছে। আপনিও চাইলে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

কাঠের ব্যবসা শুরু করার আগে কিছু বেসিক ব্যাপার জেনে রাখা প্রয়োজন। বাকিটা অবশ্যই মাঠপর্যায়ে সময়ের সাথে সাথে অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে।

আর ব্যবসা হলো সাইকেল চালানো শেখার মতো। চালিয়ে চালিয়ে শিখতে হয়। তাই এসবের উপর পড়ালেখার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ হলো হাতেকলমে শেখা।

তবে সবকিছু নিয়েই বেসিক ধারনার জন্য পড়ালেখার প্রয়োজন রয়েছে। পড়ালেখার প্রয়োজন রয়েছে নতুন নতুন স্ট্র্যাটেজি, ধারনা এবং তথ্য জানার জন্য।

আপনি যদি স্বাবলম্বী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চান তাহলে ফার্নিচার ব্যবসা নিয়ে এগুতে পারেন। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এই ব্যবসা শুরু করতে বিশাল ইনভেস্টের প্রয়োজন নেই, মাঝারি বিনিয়োগ করেই এই ব্যবসা শুরু করা যায়।

আর হ্যাঁ, এই ব্যবসা অপারেট বা পরিচালনা করা সহজ।

ফার্নিচার তৈরির ব্যবসা নিয়ে প্রাথমিক কিছু কথা

ফার্নিচার নিয়ে ব্যবসা শুরুর আগে কিছু ব্যাপার আপনার খেয়াল রাখতে হবে,

  • চেয়ার, টেবিল, আলমারি, খাট, শোপিস ইত্যাদি তৈরি করতে পারেন।
  • বিভিন্ন শৌখিন পণ্য বা আসবাবপত্র, ঘরের দরজা-জানালা ইত্যাদিও তৈরি করতে পারে।
  • এই ব্যবসায় দ্রুত অগ্রগতি করতে চাইলে নিজের ডিজাইনের দিকে নজর দিবেন। অর্থাৎ নিজের ডিজাইন রাখবেন ক্যাটালগে।

    ব্যবসা
    সুন্দর ডিজাইনে নজর দিন। ছবিঃ আনস্প্লেশ
  • ক্রেতার চাহিদা মোতাবেক ডিজাইন দিবেন। তবে আপনার ডিজাইনগুলোও দেখাতে পারেন।
  • আপনাকে ডিজাইন নিয়ে ভাবতে বলেছি যাতে নিজের একটা ব্রান্ড তৈরি হয়। যা তা ডিজাইন করবেন না। এই ডিজাইন দিয়েই আপনার ব্রান্ড ভ্যালু তৈরি হতে পারে। প্রচুর ফার্নিচার ব্যবসায়ী রয়েছেন দেশে। তবে যারা ব্রান্ড হবার দিকে ফোকাস করেছেন তারাই অনেক উপরে যেতে পেরেছেন।
  • এই ব্যবসা নিশ্চিত প্রফিটের ব্যবসা। তবে সৎ উপায়ে। অসৎ পথে উপার্জন করতে গেলে বেশি টাকা আসবে ঠিক, কিন্তু যখন যাবে তখন একেবারে খালি করে নিয়ে যাবে!
  • এই ব্যবসায় ঝুঁকি কম।
  • ক্রেতার চাহিদা বুঝতে হবে। সবসময় ভালো কাঠ দিয়ে ব্যবসা করুন যদি এই ব্যবসায় অনেক উপরে যেতে চান।
  • ভালো মানের বার্নিশ এবং ডিজাইন দিবেন সবসময়।
  • বাজার সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে ফার্নিচার ব্যবসা এর সাথে জড়িত লোকদের থেকে।
  • সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করলে যেকোনো ব্যবসাই ডুবতে পারে। অবশ্যই এটা খেয়াল রাখবেন।
  • সৎ এবং আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। আত্মবিশ্বাসই সফলতার চাবিকাঠি।

ফার্নিচারের ব্যবসা শুরু করার জন্য স্থান এবং পুঁজি

যেকোনো ব্যবসায় শুরু করার আগে এই বিষয়গুলো জড়িত। সঠিক স্থান নির্বাচন করতে না পেরে অনেকে ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হন। আবার এসবে হাত দেয়ার আগে কত টাকা বিনিয়োগ করতে হয় তাও অনেকে জানেন না। এটা নিয়ে সংক্ষিপ্ত ধারণা দিবো আমি।

ফার্নিচার ব্যবসা করার জন্য স্থান নির্বাচন

ফার্নিচার ডিজাইন
ভালো কাঠ দিবেন। ছবিঃআনস্প্লেশ

ফার্নিচার ব্যবসা শুরু করার আগে স্থান নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিক স্থান নির্বাচন না করতে পারলে ব্যবসা দ্রুত বড় করতে পারবেন না।

এ ধরনের ব্যবসার জন্য জনবসতীপূর্ণ এলাকার প্রয়োজন। নাহলে ক্রেতা পেতে অসুবিধা হতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় বাজারের মাঝামাঝি কোনো জায়গা নিতে পারলে।

বাজার থেকে দূরে হয়ে গেলে যাতায়াতের সমস্যা হতে পারে। তখন ক্রেতা অন্য নিকঠস্থ জায়গা থেকে কিনে নিতে পারে।

বাজারের মধ্যে সহজে চোখে পড়ে এমন বড় জায়গায় দোকান নিতে হবে।

সম্ভাব্য পুঁজি এবং লাভ

প্রথমদিকে ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে ব্যবসার গতি থাকবে কম।

একটা ভালো ফার্নিচার ব্যবসা দাঁড় করাতে অনেকে ২০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা ইনভেস্টের কথা বলেন।

তবে আমি বলবো ছোট থেকে শুরু করুন। ছোট ব্যবসা ধরে তার ব্যাপারে খুঁটিনাটি জানুন। তারপর ধীরে ধীরে ব্যবসাটি দাঁড় করান। শূন্য জ্ঞান নিয়ে প্রথমেই বিরাট ইনভেস্টমেন্ট করলে অতিরিক্ত রিস্ক নেয়া হয়ে যায়।

তবে বড় ইনভেস্ট তখনই করা যায় যখন প্রচুর ব্যাকআপ থাকে। তাই নিজের ক্ষমতা বুঝে ইনভেস্ট করুন।

আর এই ব্যবসায়ে সম্ভাব্য আয় প্রায় ইনভেস্টমেন্টের ২৫%-৩০%। অর্থাৎ ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে।

ক্রেতা কারা হতে পারে

কাঠের আসবাবপত্রের গ্রাহক নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবেনা। প্রচুর ক্রেতা আছেন। মোটামুটি সকল পেশার মানুষই এসবের ক্রেতা হয়ে থাকেন।

তবে আপনার কাজ যদি ভালো হয় আর রুচিশীল পণ্য তৈরি করতে পারেন তাহলে খুব দ্রুত মার্কেট ধরতে পারবেন।

কারা এই ব্যবসা করতে পারবেন

এই ধরনের ব্যবসার জন্য একাডেমিক জ্ঞান বা শিক্ষিত হবার প্রয়োজন নেই। তবে শিক্ষিত মানুষ হলে তো অনেক সুবিধা পাবেন। শিক্ষা আপনার রুচি বদলে দিবে।

আর রুচিশীল মানুষ ব্যবসায় হাত দিলে কাস্টমারও বিশ্বস্ত থাকবে। তবে কাঠ সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখতে হবে আপনাকে। নাহলে এই ব্যবসা সম্ভব না।

তবে আপনি যে মিস্ত্রীকে নিয়োগ দিবেন তিনি যেন অভিজ্ঞ হন এই লাইনে। আপনি ব্যবসায়ে নতুন, আপনার মিস্ত্রীও যদি নতুন হয় তাহলে ব্যবসা না আগানোর সম্ভাবনাই বেশি।

কোথায় মার্কেটিং করবেন

এলাকায় তো পোস্টার দিয়ে মার্কেটিং করবেনই, অনলাইন প্লাটফর্মগুলোতেও মার্কেটিং করতে পারেন।

ফার্নিচারের ডিজাইন
চমৎকার ডিজাইন করুন। ছবিঃ আনস্প্লেশ

এতে দেশে বিভিন্ন জায়গায় আপনার ক্রেতা গড়ে উঠতে পারে।

অনলাইনের এই যুগে মানুষের ব্যবসা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে! আপনি এক জায়গা থেকেই সারা দেশে ব্যবসা করতে পারেন।

এজন্য ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার ইত্যাদি প্লাটফর্মকে ব্যবহার করতে পারেন। তবে এসবের জন্য একজন ডিজিটাল মার্কেটার নিয়োগ দিতে হবে।

উনার কাজ হবে আপনার পণ্যকে এবং আপনাকে অনলাইনে এডভার্টাইজের মাধ্যমে পরিচিত করানো। কারণ অনলাইন ব্যবসার এখন দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে। আপনিও পিছিয়ে থাকবেন কেন!

আর বিশ্বস্ত এবং ভালো ডিজিটাল মার্কেটারের জন্য এখানে যোগাযোগ করতে পারেন।

ফার্নিচার তৈরির ব্যবসা যেভাবে শুরু করবেন

যেভাবে আপনি এই ব্যবসায় শুরু করতে পারেন,

  • প্রথমে কাঠ এবং ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের সাথে থেকে এসব নিয়ে আইডিয়া নিন।
    ডিজাইন
    স্মার্ট ডিজাইন। ছবিঃআনস্প্লেশ

    ততদিন পর্যন্ত আইডিয়া নিতে থাকুন যতদিন পর্যন্ত এসব নিয়ে পুরোপুরি আইডিয়া না হয়।

  • প্রয়োজন অনুযায়ী মেশিনের সাহায্য কাঠ কেটে নিতে হবে। স’মিলের ব্যাপারেও আপনার আইডিয়া নিয়ে রাখতে হবে।
  • সেই কাঠ থেকে প্রয়োজনমতো খাট, চেয়ার, টেবিল বা যা প্রয়োজন তা বানাতে হবে।
  • ভালো বার্নিশ এবং রঙ করতে হবে এবং তা অবশ্যই গ্রাহকের চাহিদা মোতাবেক।
  • আর নিজে থেকেও বানাতে হবে মার্কেটিং এর জন্য। গ্রাহককে বানিয়ে দেয়া এবং নিজের বানানো সব ফার্নিচারের ছবি তুলে সেগুলো ডিজিটাল মার্কেটারের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে হবে।
  •  অবশ্যই দক্ষ মিস্ত্রী নিয়োগ দিতে হবে ।
  • বিস্তারিত জেনেশুনে এই ব্যবসায়ে হাত দিবেন।
  • এটা ধীরগতির ব্যবসা। তবে এতে লাভ প্রচুর। ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকতে হবে।

আশা করি মোটামুটি একটু ধারণা দিতে পেরেছি। তবে এই ব্যবসা বুঝতে হলে হাতেকলমে শিখতে হবে।

তাই আজকে থেকেই এই পথের ব্যবসায়ীদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন এবং আইডিয়া নিন।

আশা করি আরো কিছু শিখতে পারবেন।

তবে আমি আগেও বলেছি আবার লেখার পর আবারো বলে দিচ্ছি যে এই ব্যবসার খুঁটিনাটি না জেনে তাতে হাত দিতে যাবেন না।

যাদের ব্যবসায়ে লস হয় তাদের লস হবার পেছনে এটা শক্ত একটা কারণ যে কিছু না জেনেই ব্যবসা শুরু করে দেয়া! তাই সব জেনেশুনে এসব পথে পা বাড়াবেন।

আমাদের সাইটে ব্যবসা নিয়ে আরো লেখা পড়ে দেখতে পারেন।

ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *