সৌদি আরব সফরের মদিনা পর্ব

সৌদি আরব সফরের কথা (মদিনা পর্ব)

বিদেশে ভ্রমণ

মদিনা

মদিনা ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্র শহর হলো। এখানেই মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর রওজা মোবারক রয়েছে।

এই শহর ঐতিহাসিকভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর কারণ মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) হিযরতের পর মদিনাতে বসবাস করেছিলেন।

মদিনা তে ইসলাম ধর্মের ঐতিহাসিক এবং প্রাচীনতম তিনটি মসজিদ রয়েছে।

এগুলো হলো,

উল্লেখ্য যে আমাদের মুসলমানদের প্রথম ক্বিবলা ছিলো আল কুদস বা মাসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস।

এটি ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমি জেরুজালেমে অবস্থিত।

মদিনা তে আমি আমার জীবনের সেরা সময় কাটিয়েছি। ছিমছাম নগরী।

বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসলমান, ওখানের পরিবেশ, মহানবী (সাঃ) এর রও্বজা মোবারক, সব মিলিয়ে আমার মনটা কেমন যেন খুব ভালো হয়ে গিয়েছিলো।

 

ওখানে যাবার আগে অনেকেই বলেছিলো ওখানের আবহাওয়া নাকি অনেক শান্তির।

মসজিদে নববী মদিনা
মসজিদে নববী। ছবিঃআনস্প্লেশ

কিন্তু মক্কায় যে গরম অনূভব করেছিলাম তাতে আমি বুঝতে পারছিলাম না আসলেই কথাটা কতটুকু সত্য। কারণ সৌদি আরব বা অন্যান্য আরব কান্ট্রি মানেই মরুভূমি আর প্রচন্ড গরম!

তবে বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, মদিনা তে পৌছানোর পরপরই আমি বুঝতে

পেরেছি এই জায়গা খুব শান্তির!

 

এখানে গরমটাও একটু কম, নির্মল বাতাস আর সুন্দর পরিবেশ সব মিলিয়ে বুঝতে পেরেছিলাম এখানে স্পেশাল কিছু আছে!

আমি কি বুঝাতে চেয়েছি আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

ওখানে না গেলে আমার কথার সত্যতা বুঝতে পারবেন না।

সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ঘটনা ২০২১ সালের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পবিত্র মদিনা নগরীকে বিশ্বের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর নগরীর মর্যাদা দিয়েছে।

এটাই প্রথম ঘনবসতিপূর্ণ নগর যেটা স্বাস্থ্যকর নগরীর তকমা পেয়েছে।

মদিনায় প্রথমবারের মতো

মক্কা সফর শেষে মদিনায় বাসযোগে যাই। বাস দিয়ে যাবার সময় মরুভূমি দেখে নতুন অভিজ্ঞতা হলো।

জেদ্দা থেকে মক্কায় যাবার পথে মরুভূমি পাইনি তা না। তখন রাত ছিলো বলে মরুভূমির তেমন একটা বোঝা যায়নি।

বিশাল বড় রাস্তার দুইপাশে যতদূর দেখা যায় শুধু মরুভূমি। আর রাস্তার কিনারে উট দেখতে পাচ্ছিলাম কিছুক্ষণ পরপর।

রাস্তায় লেন ছিলো অনেকগুলো। তবে এই মুহুর্তে কত লেনের রাস্তা তা মনে পড়ছেনা। শুধু এতোটুকু বলতে পারি যে বিশাল প্রশস্ত রাস্তা।

মসজিদ মদিনা
দিনের বেলা মসজিদে নববী। ছবিঃআনস্প্লেশ

মদিনায় একেবারে হোটেলের পাশেই নামি। আলহামদুলিল্লাহ মক্কার হোটেলের চেয়ে অনেক ভালো হোটেল ছিলো এটা।

আশেপাশে সব বাংলা রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট। ওখানে ওই এরিয়ার নাম বলতে শুনেছি ‘বাঙালি বাজার’ নামে।

এটা থেকেই বুঝে গিয়েছিলাম সব বাংলাদেশীদের সম্ভবত এদিকেই রাখা হয়।

তবে এখানেও পাকিস্তানিদের দৌরাত্ম্য চোখে পড়ার মতো ছিলো।

কিন্তু আমার নিজের থেকেও কেমন যেন মনে হচ্ছিলো যে সবাই পাকিস্তানি ছিলোনা। আফগানিস্তান বা তার আশেপাশের লোকজনও ছিলো।

তাদের শরীরের গরন প্রায় একই হবার কারণে মনে হচ্ছিলো পাকিস্তানি। আর এশিয়া মহাদেশের প্রায় সবাই ওখানে উর্দুতে কথা বলে। তাই আলাদা করা যাচ্ছিলোনা।

উর্দুতেই কথা বলার ব্যাপারটা ঠিক শিওর না। হিন্দী আর উর্দু প্রায় কাছাকাছি উচ্চারণ। উর্দু ভাষাভাষি ছাড়া বাকি সবাই সব মিলিয়েই কথা বলছিলো।

 

যাহোক, হোটেলে নেমে রুমের চাবি নিয়ে চলে যাই রুমে। ফ্রেশ হয়ে চলে যাই মাসজিদুল হেরামে। ওখানে নামাজ পড়ি।

তখন সম্ভবত ইফতারের সময় হয়ে গিয়েছিলো। আর আগেও বলেছি ইফতার নিয়ে ওখানে ভাবতে হয়না। সবার সাথে বসে পড়লাম।

প্রচুর ইফতার নষ্ট হয় ওখানে। আমি নিজেও নষ্ট করে ফেলেছিলাম। এতো খাবার আসলে খাওয়া যায়

সন্ধ্যা মদিনা
সন্ধ্যা বেলা। 

না।

তারপর সন্ধ্যার মদিনা দেখার জন্য বের হলাম হাটাহাটিতে। চমৎকার সবকিছু!

এতো সুন্দর!

ওখানের খাবারদাবারও খুব ভালো।

তবে মক্কায় যেভাবে নিজে গিয়ে খাবার কিনে আনতাম এখানে তেমনটা হয়নি। খাবার হোটেলেই দিয়ে যাচ্ছিলো।

এজেন্সি থেকে খাবারের হিসাবটা বুঝে না নেয়ায় এমন সমস্যা হচ্ছিলো। উনারা খাবারকে বাজেটের বাইরে রেখেছিলেন।

রাতের বেলায় গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম

একটা ভালো ব্যাপার ছিলো যে ওখানে আমার এক কলেজ ফ্রেন্ডকে পেয়ে গিয়েছিলাম। মক্কাতেও পেয়েছিলাম, সম্ভবত তার কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম।

তার সাথে দেখা করলাম। ওখানে আড্ডা দিতে দিতে সে অফার করলো তার গাড়ি দিয়ে মদিনা ঘুরবো কিনা।

আমার জায়গায় আপনি হলে সেই সুযোগ মিস করতেন?

না! আমিও মিস করিনি।

সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলাম। মাগরিবের নামাজের পর দুই বন্ধু বের হলাম ঘুরতে।

রাস্তা কত পরিষ্কার!

আমাদের দেশে মানুষের ভীরে হাটা যায়না। ওখানে এসব চোখে পরেনি। তবে গাড়ি প্রচুর!

রাস্তায় পাবলিক গাড়ি দেখিনি। সব ব্যক্তিগত গাড়ি।

এটার কারণ জিজ্ঞেস করেছিলাম অনেককে। সবাই বলেছিলো পাবলিক গাড়ির জন্য নাকি সৌদি আরবে আলাদা রাস্তা আছে। আমার সৌভাগ্য হয়নি পাবলিক গাড়িতে চড়ার। তাই এটার ব্যাপারে জানিনা।

তবে চড়া উচিত ছিলো!

কুবা মসজিদ
কুবা মসজিদ। 

যাহোক, মোটামুটি ঘুরতে ঘুরতে একটা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে দাঁড়ালাম কিছুক্ষণ।

শপিং কমপ্লেক্সটা তখনও খোলেনি। ইফতারের কারণে বন্ধ ছিলো।

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর খুললো।

ভিতরে ঢুকে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করলাম, এখানে সেখানে বসলাম। দোকানে কেমন বেচাকেনা হয় এগুলো নোতিস করার চেষ্টা করলাম। যদিও কিছুই বুঝিনি!

বুঝবো কিভাবে! আরবি ভাষায় নেগোসিয়েশন হচ্ছিলো।

তবে একটা ব্যাপার খেয়াল করে অবাক হয়েছি। মেয়েরা বাইরে বোরখা পড়া থাকলেও ভেতরে ঢুকে প্রায় সবাই বোরখা খুলে ফেলছিলো। তাদের দেখে মনে হচ্ছিলো ওটা খোলার পর হাফ ছেড়ে বেঁচেছে!

আমার ধারণা ভুলও হতে পারে। তবে বন্ধুকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার পর আমার ধারণার সত্যতা বুঝতে পারলাম।

 

এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করে ক্ষুদা লেগে গিয়েছিলো।

যেকোনো দোকানে বসলে হয়তো খাবার বুঝবোনা তাই কেএফসি’তে গেলাম। হালকা কিছু খাবার কিনে দুই বন্ধু গল্প করে করে গোগ্রাসে খাবার গিললাম!

স্পেশাল কোনো খাবার ছিলোনা। কেএফসি‘তে বাংলাদেশে যা পাওয়া যায় ওখান থেকেই অর্ডার দিয়েছিলাম।

তবে সৌদি আরব থেকে ফেরার পর বারবার মনে হচ্ছিলো ভুল করেছি!

একটা ভিন্ন দেশে গিয়ে ভিন্ন খাবার টেস্ট না করাটা তো ভুলই! তাইনা?

তবে ওখানকার ভাত(স্থানীয় লোকরা যেটা খায়) আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছে!

ভাতগুলো একেকটা অনেক লম্বা আর চিকন আর এর রঙ ছিলো লালচে।

যদিও দুইবার খাওয়ার পর আর ওই ভাত খেতে পারিনি। বাঙালি আবার বাংলা ভাতে ফেরত গিয়েছিলাম!

মসজিদ আল কিবলাতাইন
মসজিদ আল কিবলাতাইন। 

শপিং কমপ্লেক্স ঘুরা শেষে আরেকটা জায়গায় গিয়েছিলাম যেটার নাম মনে পরছেনা। তবে ওখানে পুরো সময়টা এরাবিয়ান ফিল পাচ্ছিলাম। জায়গাটা খুব সুন্দর ছিলো আর ওখানের সবাই এরাবিয়ান ছিলো।

তবে ওখান থেকে হোটেলে ফেরত আসার পথেই একটা গন্ডগোল বাঁধে!

বন্ধু তার গাড়ির হেডলাইট না জ্বালিয়ে মেইন রোডে উঠে যায়! আর যায় কোথায়!

সাথে সাথে তার সেলফোনে একটা এসএমএস চলে আসে জরিমানার!

কোনো পুলিশ নেই, কোথাও কেউ নেই, কিন্তু জরিমানা ধরিয়ে দিয়েছে!

বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতো জরিমানা লেগেছিলো।

বন্ধুর জন্য খারাপ লাগলেও ব্যাপারটা আমার কাছে ইন্টারেস্টিং লেগেছে। ভেবেছিলাম, ইশ বাংলাদেশেও যদি এমন জরিমানার বিধান থাকতো!

জরিমানার সিস্টেম আছে কিন্তু অনেক ভুল হয় আমাদের দেশে। নেই কোনো অটোমেশন সিস্টেম।

যার কারণে দেশের ট্রাফিকের অবস্থা খুব শোচনীয়।

আশা করি ধীরে ধীরে বাংলাদেশও আরো ভালো জায়গায় যাবে।

তারপর হোটেলে এসে তার থেকে বিদায় নিলাম। এশার নামাজ পড়ে খাওয়াদাওয়া করে নিলাম।

রাতের মসজিদে নববী ঘুরে দেখা

তারপর আবার মাসজিদুল হেরামে (মসজিদে নববী) গিয়ে নামাজ পড়ে আসলাম। রাতের বেলার দৃশ্য চমৎকার!

মক্কা নগরীকে সম্ভবত অঘুমন্ত শহর নামে ডাকা হয়। তবে এই শহরকেও কম কিছু মনে হয়নি।

পুরো মসজিদ ঘুরে ঘুরে দেখার চেষ্টা করলাম। যদিও সেটা সম্ভব হয়নি। অনেক জায়গায় ব্যারিকেড দেয়া ছিলো তাই চাইলেও ওদিকে যেতে পারছিলাম না।

তবে মোটামুটি অনেককিছুই দেখেছি।

 

এরমধ্যে, দিনের বেলায় যে ছাতা খুলে রাখা হতো সেগুলোকে বন্ধ অবস্থায় বা গুটানো অবস্থায় দেখেছি।

দরজা, জানালা, পিলার সবকিছুই স্বর্ণখচিত মনে হচ্ছিলো। কেউ বলছিলো এটা স্বর্ণের। আমি এখনো এর ব্যাপারে জানিনা! কেউ জানলে নিচে মন্তব্য করবেন। অনুরোধ রইলো।

কিছুক্ষণ পরপরই ক্লিনাররা কোথা থেকে জানি দৌড়ে এসে ফ্লোর পরিষ্কার করে যায়।

মোটামুটি সবাই যার যার পরিবার নিয়ে বসতে পারে মসজিদের খোলা অংশে।

আপনাকে বুঝাতে পারবোনা এটা কেমন আনন্দ লাগে।  সবাই যার যার পরিবার নিয়ে বসে হয় ইবাদাত করছে, নাহয় গল্প করছে। কি সুন্দর দৃশ্য!

সারাদিন রাত মসজিদে বসে থাকলেও ভালো লাগবে। নিজে না গেলে বুঝতে পারবেন না।

রওজা মোবারক

পুরুষরা রওজা মোবারক মোটামুটি সারাদিনই করতে পারেন।

তবে মহিলাদের জন্য ফজর আর এশার নামাজের পর।

আমি দুইবার রওজা মোবারক শেষে জিয়ারত করেছি। একবার ফজরের নামাজের পর করেছি। তখন মোটামুটি ভীড় কম থাকে।

রওজা মোবারকের সময় আশেপাশে কান্নার শব্দ শুনলেও অবাক হবেন না।

কতটা ইমোশন জড়িয়ে আছে এখানে বুঝবেন না। আপনার চোখ দিয়েও পানি চলে আসতে পারে।

জান্নাতুল বাক্বি

জান্নাতুল বাক্বি মসজিদে নববীর পাশে অবস্থিত। এখানে কমপক্ষে ১০ হাজার সাহাবাদের কবর রয়েছে।

সকাল সকাল গেলে ভালোভাবে সব পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

জান্নাতুল বাকি
জান্নাতুল বাকি। 

আমি আসলে স্থানটি দেখে অবাক হয়ে যাই।

ওখানে লেখা আছে কবরে যদি কোনো চিহ্ন রাখা হয় তাহলে কবরবাসীর কষ্ট হয়।

 

কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যায় কবরকে কতভাবে সাজানো যায় সেই পায়তারা চলে!

কাউকে এসব বললে না বুঝে আবার প্রতিবাদ করে বসে!

তাই কিছু না বলাই ভালো।

উহুদ পাহাড়

আমাদের হোটেলের প্রায় কাছেই ছিলো উহুদ পাহাড়। সকাল সকাল ওখানে গিয়েছিলাম।

যাবার আগে ইতিহাস ভালোমতো পড়ে গিয়েছিলাম।

তারপর সেই অনুযায়ী কল্পনা করার চেষ্টা করেছিলাম মহানবীর স্ট্র্যাটেজি।

যদিও কল্পনা করা কঠিন মনে হচ্ছিলো।

তবে কল্পনা করে মনে হচ্ছিলো ঠিক ওভাবেই যুদ্ধটা সংঘটিত হয়েছিলো।

ওখানে গেলে উহুদ পাহাড় আর যুদ্ধের ময়দানটা দেখে আসবেন।

আরো কিছু জায়গায় ঘুরেছিলাম

মদিনায় যাবার পর হযরত আদম (আঃ) এবং হযরত হাওয়া (আঃ) প্রথম মিলন হয়েছিলো যে পাহাড়ে সেই পাহাড়ে গিয়েছিলাম। ওখানে কোনো ছায়া ছিলোনা। গরম কি জিনিস টের পেয়েছিলাম!

তারপর খেজুর বাগানে ঘুরেছিলাম। আরাফাতের ময়দান দেখেছি। তবে গাড়ি থেকে নামার অনুমতি না থাকায় এসব কিছু বাসে বসে বসেই দেখতে হয়েছে।

আপনারা যে এজন্সির মাধ্যমে যাবেন তাদের থেকে এসব ব্যাপারে জেনে নিবেন।

অনেক সময় এগুলো প্যাকেজে অন্তর্ভূক্ত থাকে, অনেকসময় থাকেনা।

তাই এগুলা জেনে নিবেন।

 

ওখান থেকে হোটেলে ব্যাক করি।

বাকি দিনগুলো নামাজ, আর মসজিদে নববীতে ঘুরতে ঘুরতেই কেটে যায়।

তারপর আমার চাচা এসে আমাদেরকে ঘুরতে নিয়ে যান তায়েফ নগরীতে।

বিশ্বাস করুন আমি অবাক হয়ে যাই ওখানের পরিবেশ দেখে!

এতো গরম এলাকার মাঝে তায়েফ সিটি যেন জান্নাত!

পরের লেখায় তায়েফ সিটি নিয়ে কথা বলবো।

 

আর আমার মক্কা সফরের লেখা পড়তে চাইলে এখানে দেখে আসুন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *